নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।’ বাঙালির আবেগের অপর নাম ফুটবল। নীল-সাদার প্রেমে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাঁদের হৃদয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লায়োলেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়, মেসির গোল্ডেন বল না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে। মেসি ভক্তরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। রাজ্যে পালাবদলের পর সরানো হয় লেকটাউনে বিপজ্জনকভাবে থাকা মেসির
৭০ ফুট মূর্তি। তারপর বেদি থেকে নামিয়ে ফুটবল তারকার ঠাঁই হয় বাগুইআটিতে পূর্তদপ্তরের স্ট্যাক ইয়ার্ডে। এখন বর্ষাকাল। ঘনঘন বৃষ্টি। সেখানে সবুজ ঘাসের উপর কালো ত্রিপলে মুড়ে রাখা আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকার মূর্তি। এই ঘটনায় বিস্মিত বহু আর্জেন্তিনা প্রেমী।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসিকাণ্ড এখনও মানুষ ভোলেননি। নতুন করে এফআইআর রুজু হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান পন্ড হলেও লেকটাউনে মেসির মূর্তি বসানো হয়েছিল আড়ম্বরেই। সশরীরে হাজির হতে না পারলেও মেসি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন নিজের মূর্তির। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ওই মূর্তি বসিয়েছিলেন লেকটাউন ঘড়ির মোড়ে। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা। মূর্তি প্রায় ৪৪ ফুট, বাকি ২৪ ফুট ছিল বেদি। ইন্ডিয়া সফরে মেসি যে ভিডিয়ো শেয়ার করেছিলেন, সেখানেও এই মূর্তি ছিল। পালাবদলের আগে মেসির মুখের গড়ন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক হয়েছিল।
পালাবদলের পর গত ২৫ মে অনেকেই লক্ষ্য করেন, ঝোড়ো হাওয়ায় নড়ছে মেসির মূর্তি। সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরের দিনই কোমরে দড়ি বাঁধা হয়। ১ জুন বিশালাকার মূর্তিটি হাইড্রলিক ক্রেন দিয়ে নামানো হয়। লম্বা ট্রেলারে শুইয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয় হাত-পা ও কোমর। ‘গালিভার’ যেন লিলিপুটদের হাতে বন্দি! মাত্র তিন কিলোমিটারের রাস্তা পার হতেই সময় লেগেছিল প্রায় ৫৫ মিনিট! ওইদিনই বাগুইআটি ফ্লাইওভারের নীচে পূর্তদপ্তরের স্ট্যাক ইয়ার্ডে রাখা হয় মেসিকে। স্ট্যাক ইয়ার্ডের দিকে তাকালেই দেখা যায়, মেসির মূর্তি ত্রিপল দিয়ে ঢাকা রয়েছে। সুমন মুখোপাধ্যায় নামে এক আর্জেন্তিনা প্রেমী বলেন, মেসি তৃণমূলের নন, বিজেপিরও নন। তিনি গোটা বিশ্বের। তাই যদি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সরানো হয়েই থাকে তাহলে অন্য জায়গায় বসানো হোক। কিংবা আরও ভালো মূর্তি তৈরি হোক। এভাবে কিংবদন্তির মূর্তি নষ্ট হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত মূর্তি স্ট্যাক ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এত বড়ো মূর্তি কোনো ঘরের ভিতরে রাখা সম্ভব নয়। ত্রিপল মুড়িয়ে সযত্নেই রাখা হয়েছে। পরবর্তী পরিকল্পনা এখনও হয়নি। হলে নিশ্চয়ই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র