নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত আরামবাগ পুরসভায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে পুরসভার উন্নয়নে ১০জন সদস্যের কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির প্রথম বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়ি তৈরির জন্য ছাড়পত্র দিল পুরসভা। শহরের ১৯টি ওয়ার্ডের ২৮জন উপভোক্তার বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার ওই বৈঠকে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, আরামবাগের হেমন্ত বাগ সহ পুর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি সাহায্যে বাড়ি তৈরির সুযোগ পেতে কয়েকহাজার আবেদন জমা পড়েছে। সেইসব আবেদন খতিয়ে দেখা, ফিল্ড ভেরিফিকেশন চলছে। সেই প্রক্রিয়ার পর ২৮টি আবেদনে ছাড় দিচ্ছে পুরসভা।
বিমানবাবু বলেন, প্রাথমিকভাবে ২৮জন উপভোক্তার আবেদন অনুমোদনের জন্য রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। বাড়ি তৈরির টাকা ঢুকলে তাঁরা কাজ শুরু করবেন। প্রকৃত গরিব, যাঁদের মাথার উপর পাকা ছাদ নেই-এমন ব্যক্তিরাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সেজন্য আবেদনকারীদের নথি ও মাসিক আয় খতিয়ে দেখে তবেই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে শহরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা ‘হাউজিং ফর অল’ প্রকল্প চালু হয়েছিল। পাঁচবছরের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও মাঝে করোনার জন্য সময় বাড়ানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩৭২৯টি ঘরের টাকা বরাদ্দ হয়। বর্তমানে প্রায় ৭০জনের বাড়ি তৈরি চলছে। চলতি বছরে আবাস যোজনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরসভার প্রায় তিনহাজার মানুষ এই প্রকল্পে ঘর পেতে আবেদন করেছেন। পুরসভা সেসব আবেদন খতিয়ে দেখছে।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ৩লক্ষ ৪৩হাজার টাকা বরাদ্দ করে। কেন্দ্র দেয় ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা। রাজ্য সরকার ১লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা দেয়। উপভোক্তাকে ২৫হাজার টাকা দিতে হয়। সেইসঙ্গে নিজস্ব জমি ও মাসিক আয় ১৮হাজার টাকার কম হতে হবে।
এদিনের বৈঠকে বিধায়করা পুর এলাকার বেহাল রাস্তা, নিকাশিনালা ও পথবাতির পরিকাঠামো নিয়েও আলোচনা করেন। বিমানবাবু বলেন, আরামবাগ পুরসভায় বেশ কিছু প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। সেইমতো এদিন বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আরামবাগ পুরসভা অফিসে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসছেন বিধায়করা।