


রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: আরামবাগকে পৃথক জেলা করা হোক। এই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিলেন আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারা। সোমবার শেষলগ্নে প্রচারে এসে আরামবাগবাসীর সেই দাবি পূরণের কথা জানিয়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরামবাগের মাটিতে দাঁড়িয়েই ঘোষণা করলেন, ‘জিতলেই আরামবাগকে জেলা করা হবে।’
এদিন বিকালে তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের সমর্থনে আরামবাগ শহরের পল্লিশ্রী মোড়ে সমাবেশ করেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক। সেখানেই হুডখোলা জিপের উপরে দাঁড়িয়ে অগণিত জনতার সামনে বলেন, আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া, এই চার বিধানসভায় তৃণমূলকে জেতান। আরামবাগকে আলাদা জেলা করবে তৃণমূল সরকার। আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে তৃণমূল। কথা দিলাম। আমি এখন আরামবাগে আছি। বাকি গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়া থেকে যাঁরা আমার কথা শুনছেন, সবাইকে কথা দিলাম।
আরামবাগ হুগলি জেলার অধীন। জেলার প্রশাসনিক কার্যালয় চুঁচুড়ায়। আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে ছুটতে হয় চুঁচুড়ায়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কোনো কাজে গেলে প্রায় সারা দিন সময় লেগে যায়। তাই আরামবাগ মহকুমাকে পৃথক জেলা করার দাবি দীর্ঘ দিনের। এরজন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেছেন মহকুমাবাসী। কিন্তু, এখনো কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে এদিন তৃণমূলের যুবরাজের আরামবাগকে আলাদা জেলা করার ঘোষণায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা।
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আরামবাগ মহকুমা এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। হাওড়ার সঙ্গে আরামবাগকে রেলপথে যুক্ত করার কৃতিত্ব তাঁরই। এছাড়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিনামূল্যে রেশন, যুবসাথী, রূপশ্রী, কন্যাশ্রীর সুবিধাও মানুষের কাছে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন। এদিন অভিষেক সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আরামবাগে ৫৫০কোটি টাকা খরচ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের নামে মেডিকেল কলেজ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আরামবাগে ৮০ হাজারের বেশি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। দু’বছরে প্রায় ১৫ হাজার পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে। আরামবাগে মিতা বাগকে জেতান। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরামবাগের যত গরিব মানুষ আবেদন করেছেন, সবাইকে পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে আমাদের সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিক আর না দিক, আমরাই দেব। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। আমি কথা দিলে কথা রাখি। আরামবাগে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার দায় দায়িত্ব আমাদের। আরামবাগের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছি।
এখানেই থেমে যাননি অভিষেক। তিনি এই ইস্যুতে বিরোধীদেরও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বিজেপি বলছে, মোদিজি নাকি গ্যারান্টি দেবে। ১২ বছর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আছে। যদি ১২ পয়সার উন্নয়নের হিসাব আরামবাগের জন্য দিতে পারে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। অভিষেক জনতাকে প্রশ্ন করেন, আমার উপর আপনাদের আস্থা, ভরসা আছে তো? জনগর্জন ভেসে আসে ‘হ্যাঁ আছে’।