সংবাদদাতা, আরামবাগ: ২০০ বছর ধরে আরামবাগের দৌলতপুরে হালদার বাড়িতে পূজিত হয়ে আসছে দ্বিভুজা দুর্গা ও শিবঠাকুরের যুগল মূর্তি। এই পুজোতে শুধু মূর্তিতেই যে অভিনবত্ব দেখা যায় তা নয়, অভিনবত্ব রয়েছে পুজোর পদ্ধতিতেও। এই পুজো নিয়ে নানা গল্প লোকমুখে ঘুরে বেড়ায়। দেবীর কৃপায় অনেকেরই নাকি মানসিক পূরণ হয়েছে। হালদার বংশের বর্তমান সদস্য হারাধন হালদারের মুখে শোনা গেল এই পুজো নিয়ে নানা কথা।
প্রায় ২০০ বছর আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। আরামবাগের মতো শহরে তো নয়ই। দ্বারকেশ্বর নদীপথে চলত ব্যবসাবাণিজ্য। সেই সময়ে মেদিনীপুর থেকে চার ভাই মাখনলাল, গোপালচন্দ্র, বেণীমাধব ও গোষ্ঠবিহারী হালদার আরামবাগের দৌলতপুরে এসে থিতু হন ব্যবসা করার অভিপ্রায়ে। প্রথমে তাঁরা মাথায় মালপত্র নিয়ে ফেরি করতেন। তারপর একটি মুদিখানার দোকান খুলে বসেন। তাঁরা ওই নদীপথেই কলকাতা থেকে মালপত্র আনতেন। একবার মালপত্র কিনে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতে তাঁদের তিনটি নৌকাই ডুবে যায়। বহু টাকার মালপত্র নষ্ট হওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন চার ভাই। সেইদিন রাতে মা চণ্ডী চারভাইকেই স্বপ্নে দেখা দেন। তিনি বলেন, যেখানে নৌকাডুবি হয়েছিল, সেখানে ফিরে যা কাল সকালে। অনেক মালপত্র ফিরে পাবি। দেবীর আজ্ঞা মতো চার ভাই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সত্যিই প্রচুর মাল উদ্ধার করতে সমর্থ হন। তাঁদের ক্ষতির বহর কমে। এরপর মা ফের তাঁদের স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন, শিব ও দুর্গার মূর্তি গড়ে পুজো করতে। তারপর থেকেই হালদার বাড়িতে শুরু হয় শিব-দুর্গার আরাধনা। হালদার বাড়ির এই দুর্গা প্রতিমা দ্বিভুজা। এই বাড়ির পুজো প্রতিপদে শুরু হয়। সপ্তমীতে পালকিতে চেপে আসে কলাবউ। হালদার পরিবারের সদস্যরাই সেই পালকি বহন করেন। এরপর দু’টি ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয় মা দুর্গার সামনে। অষ্টমীতে একটি মিশকালো পাঁঠা বলি হয় এবং ওই দিন সন্ধিপুজোতে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। নবমীতে দু’টি পাঁঠা, একজোড়া আখ, একটি কলা, একটি লেবু, একটি ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। এরপর নবমীর রাতে অষ্টমীতে বলি দেওয়া পাঁঠার মুণ্ডটি দ্বারকেশ্বর নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। দশমীর দিন সময় মেনে দর্পণ জলে ফেলা হয় এবং ওইদিন সন্ধ্যাবেলায় প্রতিমা নিরাঞ্জন হয়।