নয়াদল্লি, ৭ নভেম্বর: দু’দিন পিছিয়ে যাওয়ার পর আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে হল আর জি কর মামলার শুনানি। এটি সপ্তম শুনানি। তবে এদিন প্রায় আধঘণ্টার মধ্যেই শুনানি শেষ হয়ে যায়। সিবিআইয়ের দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টও খতিয়ে দেখেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। এরপর সিবিআইকে আগামী ৪ সপ্তাহ পর পরবর্তী স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ শুনানি চলাকালীন আর জি কর মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়ে শীর্ষ আদালতের ধমক খেতে হয় বর্ষীয়ান এক আইনজীবীকে। এদিন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবাল। তবে এদিনের শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
Advertisement
আজ, দুপুর ২টোর পর শুরু হয় আর জি কর মামলার শুনানি। মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। তা খতিয়ে দেখেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। প্রধান বিচারপতি বলেন, শিয়ালদহ কোর্ট চার্জ ফ্রেম করেছে। তদন্ত চলবে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই এটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনওরকম আলোচনা হবে না। পরবর্তী তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ১১ নভেম্বর। মনে করা হচ্ছে তদন্তের অগ্রগতির জন্যই পরবর্তী রিপোর্ট চার সপ্তাহ পর জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আজ রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবালও এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানান। অন্যদিকে, জুনিয়র চিকিৎসকদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং আদালতে বলেন, এনটিএফ-এর প্রতিনিধিত্ব কে করবে? এটি রাজ্য সরকার ঠিক করুক তা আমরা চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপরই কলকাতা থেকে মামলার ট্রায়াল সরানোর আর্জি জানান এক বর্ষীয়ান আইনজীবী। বলেন, এই মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তর করা হোক। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ট্রায়াল সরানোর একাধিক নজির রয়েছে। যদিও তা পত্রপাঠ নাকচ করে দেন প্রধান বিচারপতি। পাশাপাশি ওই আইনজীবীকে রীতিমতো ধমকও দেন। বলেন, এমন মন্তব্য আপনি করতে পারেন না। ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, এখনই মামলা সরানোর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এই ধরনের নির্দেশ মণিপুর সংক্রান্ত মামলায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কোনও প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, কলকাতাতেই এই মামলার ট্রায়াল চলুক। তবে মনে করা হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি সম্ভবত আজই শেষ হল। কারণ তিনি আগামী ১০ নভেম্বর অবসর গ্রহণ করছেন। এরপর শীর্ষ আদালতের নতুন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে পারে।



