নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডানকুনিতে দিল্লি রোডের ধারে অ্যাপ ক্যাব চালক রামজাস কৌরিকে খুনের পর মৃতদেহ ‘ডাম্প’ করে গাড়ি নিয়ে উত্তর কলকাতায় চলে আসে তিন অভিযুক্ত। নিমতলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন ভূতনাথ মন্দিরের কাছে ‘পার্টি’ করে তিনজন। এরপর গাড়ি চালিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ঘুরে শেষে মল্লিক বাজার ও পার্ক স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি নামী রেস্তরাঁর সামনে অ্যাপ ক্যাবটি ফেলে রেখে যায়।
একইভাবে মধ্যমগ্রামের অ্যাপ ক্যাব চালক ভগবানপ্রসাদ গুপ্তাকে খুন করে দেহ ট্যাংরাতে ফেলার পর শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় এসে জমিয়ে ‘পার্টি’ করে তারা। এরপর ট্রেনে চেপে মধ্যমগ্রাম ফিরে যায়। দুই অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের ‘সিরিয়াল কিলার’দের জেরা করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেয়েছে চন্দননগর কমিশনারেট ও কলকাতা পুলিশ। দু’জনকেই যে শ্বাসরোধ করে গাড়িতে খুন করেছিল, তাও তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছে ধৃত মহম্মদ মনিরুল গাজি, মহম্মদ আরিয়ান মোল্লা এবং শেখ সাহাদাত। এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দুটি অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডানকুনি থানা। তাদের দফায় দফায় জেরা করছেন কলকাতা পুলিশ ও চন্দন নগর কমিশনারেট এর অফিসাররা। ধৃত তিনজন জেরায় জানিয়েছে, তারা মূলত ছিনতাই করে বেড়ায়। শাটল গাড়ি এবং অ্যাপ ক্যাব তাদের টার্গেট। এর আগে একাধিক চালকের টাকা ,মোবাইল লুঠ করেছে তারা। রামজাস ও ভগবান এই দুই অ্যাপ ক্যাব চালকের গাড়িতে তারা যাত্রী সেজে ওঠে। মারধর করে নগদ, সোনার চেন ও আংটি কেড়ে নেয়। চালকের তরফে বাধা পাওয়ায় তারা তাঁদের মারধর করে অজ্ঞান করে দেয়। অচৈতন্য হয়ে পড়লে তারা শ্বাসরোধ করে খুন করে দুজনকে। তিনজনের দাবি, ছিনতাই করাই ছিল তাদের পরিকল্পনা। বাধা পাওয়ায় তারা খুন করে। শ্বাসরোধ করার আগে ‘ভিকট্রিম’এর পা দুটি বেঁধে দেয়। তদন্তকারীদের কাছে ধৃতদের দাবি, ছিনতাই-লুটের টাকায় তারা নেশা করে। এরআগেও ছিনতাই-লুটপাট করে মেলা টাকায় চিনা পাড়ার পানশালায় মৌজমস্তি করেছে। সেই সূত্রে কলকাতার কয়েকজনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পার্ক সার্কাস ,ট্যাংরা এই সব এলাকা তাদের পরিচিত ছিল। তাই অপারেশনের পর এখানেই অ্যাপ ক্যাব দুটি ফেলে রেখে গিয়েছিল।



