বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: ডানায় ভর করে ২৩টি দেশ পেরিয়ে মণিপুরে ফিরল আমুর ফ্যালকন প্রজাতির দুই বাজপাখি। নাম অপাপাং ও আলাং। এশিয়া ও আফ্রিকা জুড়ে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাদের এই প্রত্যাবর্তন নজর কেড়েছে বিশ্বজুড়ে। উত্তর-পূর্ব চিনের প্রজননক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল পাখি দুটি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা তাদের শরীরে স্যাটেলাইট ট্র্যাকার লাগান। এরপর থেকে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব পাখি দুটিকে ‘প্রকৃত বিশ্বনাগরিক’ বলে অভিহিত করেছেন। এই পর্যবেক্ষণ থেকে আমুর ফ্যালকনের পরিযায়ী পথ ও আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
মণিপুরের তামেংলং জেলার পার্বত্য অঞ্চলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ থাকার কথা পাখি দুটির। প্রতি বছর তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয় মানুষ। পাখিগুলিকে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করেন তাঁরা। এই সময়ে এখানকার উইপোকা খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে আমুর ফ্যালকনগুলি। এরপর সোমালিয়ার উদ্দেশে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। এই যাত্রায় টানা ছয় দিনের যাত্রায় প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার আরব সাগর অতিক্রম করতে হবে।
আকারে ছোট হলেও আমুর ফ্যালকনের পরিযান বিস্ময়কর। প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাইবেরিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে এই পাখিগুলো। একই পথে ফিরেও যায়। যাত্রাপথে নাগাল্যান্ডের ওখা, মণিপুরের তামেংলং ও অসমের ডিমা হাসাও জেলায় বিশ্রাম নেয় তারা। তবে সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও তাদের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাখিগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে চলতি দশকে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং শুরু করেছে নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের বন দপ্তর।



