নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সুড়ঙ্গের মুখে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড়। কেউ বাংলার। কেউ অসম, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ড কিংবা পাঞ্জাবের। দীর্ঘ অপেক্ষায় তাঁরা। সময় যত গড়াচ্ছে, কেউ আশা ছাড়ছেন। কেউ আবার অলৌকিক কিছু ঘটার অপেক্ষায়।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সুড়ঙ্গের মুখে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড়। কেউ বাংলার। কেউ অসম, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ড কিংবা পাঞ্জাবের। দীর্ঘ অপেক্ষায় তাঁরা। সময় যত গড়াচ্ছে, কেউ আশা ছাড়ছেন। কেউ আবার অলৌকিক কিছু ঘটার অপেক্ষায়।
সিকিমের নামচির সমরদুঙে সুড়ঙ্গের ভিতর চরম ঝুঁকি নিয়ে টানা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। জলকাদার সঙ্গে রয়েছে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সুড়ঙ্গ থেকে ১২ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা যায়। বুধবার মিলেছে একটি। সিকিম প্রশাসন জানাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গে ২৭ জন ছিলেন। বিস্ফোরণ হতেই বেরিয়ে আসেন দুজন। অর্থাৎ দুর্ঘটনার কবলে ২৫ জন। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারিভাবে উদ্ধার হওয়া মৃতের সংখ্যা ১৩। ফলে আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলাচলে বাকি ১২ জনের পরিবার।
এই বিপর্যয়ে বাংলার ১১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে ঘটনাস্থলে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং বিধায়ক পুণা ভেংরাও। এদিন ফোনে বিশাল বলেন, এখনো পর্যন্ত বাংলার ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জলপাইগুড়ির পাঁচজন এবং একজন আলিপুরদুয়ারের। ময়নাতদন্তের পর দেহগুলি বাড়িতে পাঠানো হবে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, দেড় কিমি লম্বা ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে ৯০০ মিটার পর্যন্ত কোনোমতে গাড়ি যেতে পারছে। বাকি অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। রেসকিউ অপারেশন টিম ভীষণ বেগ পাচ্ছে। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে এনএইচপিসি কর্তৃপক্ষ।
বিপন্নদের মধ্যে একজন সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ, তিনি কেরলের বাসিন্দা। তিনি জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক এবং ভ্লগারও। তাঁর ব্যাপারে এনএইচপিসি কর্তৃপক্ষ বা সিকিম প্রশাসন এখনো কিছু জানায়নি। সুড়ঙ্গের মুখে ৭২ ঘণ্টা যাবৎ চরম উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষায় ঝাড়খণ্ডের বাবলু সাহু। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন তিনি। কিন্তু আটকে পড়েন তাঁর পরিবারের তিন সদস্য। বাবলু বলেন, আমিও এই টানেলের শ্রমিক। দাদা, জ্যাঠাসহ পরিবারের চারজন এখানে কাজ করছি। ওঁদের খাবার দিয়ে সুড়ঙ্গ থেকে বেরোচ্ছিলাম। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ হয়। চারদিক ধোঁয়ায় ভরে যায়। কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোনোমতে দৌড়ে বাইরে বেরোই। তবে ধাক্কায় মাথা ফেটে গিয়েছে। এদিকে, বুধবার বিকেলে মাটিয়ালি ব্লকের কিলকোট চা বাগানে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সিপিএম এবং বিজেপির এক প্রতিনিধি দল।