Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রমিক বিরোধী কেন্দ্রীয় শ্রম কোড বাংলায় কার্যকর হবে না: শ্রমমন্ত্রী

শ্রমিক বিরোধী কেন্দ্রীয় শ্রম কোড বাংলায় কার্যকর হবে না: শ্রমমন্ত্রী
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  কেন্দ্রীয় সরকার যে শ্রমিক বিরোধী  শ্রম কোড দেশে চালু করেছে, তা এরাজ্যে কার্যকর করা হবে না। মঙ্গলবার বিধানসভায় শ্রমদপ্তরের বাজেট বিতর্কে জবাবি ভাষণে বিভাগীয় মন্ত্রী মলয় ঘটক একথা জানান। তিনি বলেন, শ্রম কোড চালু না-করার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন। রা঩জ্যের শ্রম আইনই বাংলায় চলবে।  পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া একমাত্র তামিলনাড়ুতে এই শ্রম কোড চালু হয়নি।

Advertisement

মলয় ঘটক বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশের যে শ্রম আইনগুলি হয়েছিল তার বদলে কেন্দ্র চারটি শ্রম কোড চালু করেছে। শ্রম কোডে কীভাবে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে সভায় জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে  কয়েক বছরের মেয়াদে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে সেনা নিয়োগ করছে কেন্দ্র। নির্দিষ্ট সময়ের পর ওই সেনাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। শ্রম কোডে সেই ফর্মুলাতে দু-চার বছরের মেয়াদে শ্রমিক নিয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মালিক পক্ষকে। শ্রমিকদের ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ পদ্ধতিতে  যেকোনও সময় ছাঁটাই করা যাবে। শ্রম আইনে শ্রমিকদের ‘ওয়েজেস’ এর মধ্যে বেতনের টাকা ছাড়াও আরও কিছু সুবিধা যেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা, ভ্রমণ খরচ, থাকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত আছে। কিন্তু শ্রম কোডে ওয়েজেস বলতে শুধুমাত্র মূল বেতন ও ডিএ থাকবে। কোডে বলা হয়েছে, ওয়ার্কার বা শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি মিলবে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে। 
বামফ্রন্ট সরকারের তুলনায় তৃণমূল সরকার শ্রমিক স্বার্থে কত বেশি ব্যবস্থা নিয়েছে তা তথ্য ও পরিসংখ্যানসহকারে বিধানসভায় জানান মন্ত্রী। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বাম রাজত্বের শেষে মোট নথিভুক্তের সংখ্যা ছিল ২৬ লক্ষ ৮৬ হাজার। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ১ কোটি ৭৬ লক্ষ হয়েছে। বাম আমলে এই প্রকল্পে সুবিধা প্রাপকের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৬৩০। তাঁদের জন্য তখন খরচ করা হয়েছিল ৯ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। সেখানে তৃণমূল জমানায় মোট ৩৪ লক্ষ ৯৫ হাজার জনকে সব মিলিয়ে ২৬১২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাম আমলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল মাসে ২,৪৪৮ টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার একমাসের মধ্যেই তা বাড়িয়ে তিনগুণ করেন। এখন ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ১৩,২৫২ টাকা হয়েছে। 
চা  ও পাট শিল্পের শ্রমিকদের জন্য বাম আমলের তুলনায় এখন কত বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তার বিস্তারিত হিসেব দেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্পে শান্তি আছে। কোনও শ্রমদিবস নষ্ট হয় না। বন্ধ হয় না কলকারখানা। চা বাগান অধিগ্রহণের নামে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকার ভাঁওতা দিয়েছে বলে মলয়বাবু অভিযোগ করেন। বাজেট বিতর্কে বিজেপি বিধায়করা অংশ নেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্মল ঘোষ, অসিত মজুমদারসহ মোট চার বিধায়ক বিতর্কে অংশ নেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ