Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশবিরোধী? পালটা স্বদেশি আন্দোলনের ঐতিহ্য, ফের দেওয়াল দখলে বাম ছাত্ররা!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন মোছার পরে ফের দেওয়াল দখল করলেন বামপন্থী পড়ুয়ারা। বিজেপি-আরএসএসকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে তাঁদের পালটা যাদবপুরের স্বদেশি আন্দোলনের ইতিহাস।

দেশবিরোধী? পালটা স্বদেশি আন্দোলনের ঐতিহ্য, ফের দেওয়াল দখলে বাম ছাত্ররা!
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন মোছার পরে ফের দেওয়াল দখল করলেন বামপন্থী পড়ুয়ারা। বিজেপি-আরএসএসকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে তাঁদের পালটা যাদবপুরের স্বদেশি আন্দোলনের ইতিহাস। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরের দেওয়ালে দেওয়ালে দেশবিরোধী গ্রাফিতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। তারপর থেকেই শনিবার বেশি রাতে এবং রবিবার বেশকিছু সমালোচিত গ্রাফিতি মুছে ফেলেছিল কর্তৃপক্ষ। তারপরেই বামপন্থী পড়ুয়ারা দেওয়াল উদ্ধার বা ‘রিক্লেইম দ্য ওয়ালের’ ডাক দেন। এসএফআই এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘টেক ব্যাক ইয়োর ওয়ালস’। সোমবার রবীন্দ্রনাথ থেকে কার্ল মার্ক্সের স্লোগান এবং ছবিতে ঢেকে যায় দেওয়াল।

Advertisement

এসএফআই সদস্য অঞ্জিল বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বদেশি আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করে। ওয়েবসাইটের হিস্ট্রি সেকশনে দেখা যাবে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্যই স্বদেশি আন্দোলনের সপক্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যাদবপুরের বিরুদ্ধে কথা বললে সেটা দেশের বিরুদ্ধে কথা বলাই হয়। হিটলার বা মুসোলিনির বিরুদ্ধে লেখা গ্রাফিতি মুছে ফেলা মানে ফ্যাসিবাদ বা সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে দাঁড়ানো।’ সাদা কাগজে ঢেকে দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথের ছবির সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁর কবিতার অংশবিশেষ লেখা হয়েছে, ‘ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে, অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।’ ওপেন এয়ার থিয়েটারে সাদা রঙে মোছা গ্রাফিতির উপরে লেখা হয়েছে কার্ল মার্ক্সের উক্তি, ‘উই হ্যাভ নো কমপ্যাশন অ্যান্ড উই আস্ক নো কমপ্যাশন ফ্রম ইউ। হোয়েন আওয়ার টার্ন কামস, উই শ্যাল মেক নো এক্সকিউজেস ফর দ্য টেরর।’ আগে সেখানে ফ্যাসিস্টদের গুলি করার কথা লেখা ছিল।
যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অবশ্য এসবে চাপা বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিক্লেইম দ্য নাইটের আদলে যেভাবে রিক্লেইম দ্য ওয়ালের কথা বলা হচ্ছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। বাইরে থেকে যাঁরা আসেন, তাঁরাও এসব দেখে ভালো ধারণা পোষণ করেন না। 
এবিভিপির যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাস বামেদের দেওয়াল দখলের প্রতিবাদ করে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে, এসএফআইয়ের কলকাতা জেলার সভাপতি হাসিব হোসেন এবং সম্পাদক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা সাংবাদিক সম্মেলন করে দেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নতিতে যাদবপুরের অবদানের কথা মনে করিয়ে দেশবিরোধী অভিযোগের সমালোচনা করেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ