নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে মাদক চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (এএনটিএফ) চালুই করেনি মমতার সরকার। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদান না হওয়ায় রাজ্যে মাদক সহ কেউ ধরা পড়লে তার নেটওয়ার্ক দেশের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে কি না, তা জানা যেত না। যে কারণে তদন্ত একটা পর্যায়ের পর গিয়ে থমকে যেত। পালাবদলের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিত এই টাস্ক ফোর্স চালু হচ্ছে রাজ্যে। এবার আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলার ব্যাপারে আশাবাদী কর্তারা।
দেশকে মাদকমুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল কেন্দ্র। ঠিক হয়েছিল, মাদকের চোরাচালান আটকাতে সব রাজ্য কোমর বেঁধে নামবে। তাদের সহযোগিতা করবে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো। পরস্পরের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান হবে। দেশের সিংহভাগ রাজ্যে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার এএনটিএফ চালুই করেনি। মুর্শিদাবাদ, মালদহ সহ কয়েকটি জেলায় কীভাবে চোরাচালানের হাব গড়ে উঠেছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের একাংশ এই কারবারে যে জড়িত কিংবা তাঁদের মদতে যে এই কারবার চলছে, সেই তথ্যও পাঠিয়েছিল মন্ত্রক। কিন্তু রাজ্য যে মাদক কারবারিদের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে, তা সামনে আসুক চায়নি পূর্বতন সরকার। কারণ তৃণমূলের নেতা, বিধায়কদের একাংশ যে এই কারবারে জড়িত, তা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সম্ভবত তাই এএনটিএফ-এ আপত্তি ছিল তৃণমূল সরকারের। এমনটাই মনে করছেন মন্ত্রকের আধিকারিকরা। এই এএনটিএফ গঠনের জন্য কেন্দ্র যে টাকা বরাদ্দ করেছিল, তাও পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন।
কেন্দ্রের কোন কোন প্রকল্প রাজ্য সরকার কার্যকর করেনি, পালাবদলের পর তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সেখান থেকেই জানা যায়, রাজ্যে এএনটিএফ চালু না হওয়ার কথা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প দ্রুত চালু করার জন্য নির্দেশ যায় পুলিশ ডিরেক্টরেটে। এরপরই এক আইজিকে মাথায় রেখে এএনটিএফ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে যে কোনো প্রান্তে মাদক ধরা পড়লেই সেই তথ্য শেয়ার করা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও এই ফোর্সের ভিন রাজ্যের অফিসারদের কাছে। একইসঙ্গে এনসিবির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করবেন এএনটিএফের অফিসাররা। পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক নিয়েও প্রচার চালাবে এই ফোর্স।