নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দু’ মাস পর প্রশ্নপত্রে ভুল স্বীকার করে এনটিএ ফের পরীক্ষা ঘোষণা করায় সোমবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করলেন রাহুল গান্ধী। এদিকে ঝাড়খণ্ডে অনশন প্রত্যাহার করে নিলেন ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাত। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিতর্কিত সব পরীক্ষা বাতিল করার পর এই আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সেই মতো এনটিএ’র বিজ্ঞপ্তিকে ঢাল করেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষার নামে হাজার হাজার টাকা ফি বন্ধর দাবিও করেছে কংগ্রেস। পরীক্ষা ফি হোক স্রেফ এক টাকা, যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভানু চিব এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি তুলেছেন। সংসদে সরকারই লিখিতভাবে জানিয়েছে ২০১৮ সালে এনটিএ তৈরি হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১২ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা স্রেফ ফি বাবদ আদায় করেছে এনটিএ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের তোপ, মোদিজি, আপনার এনটিএ কী করেছে একবার দেখুন। ইউজিসি-নেটের সোসিওলজি, ইংরেজি এবং কমার্স পরীক্ষা হয়েছিল ২২-৩০ জুন। এখন দু মাস পর তিন পরীক্ষাই বাতিল। ফের পরীক্ষা হবে সেপ্টেম্বরে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষার ফি দিয়েছেন, দূর-দূরান্তে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছেন। এখন আবার তা করতে হবে। ভুল করছে এনটিএ। আর শাস্তি পাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। আসলে এনটিএ হয়ে গেছে একটা নিগড়ে নেওয়ার মেশিন। ছাত্রদের থেকে টাকা নেয়, বছরের পর বছর সময় কেড়ে নেয়, মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয়। পরিবর্তে কিছুই দেয় না। এমনকি চাকরিও নয়। এনটিএ আগে জবাব দিক, পরীক্ষার আগে কি এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল? রাহুল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী এর জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
এদিকে সোমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন কম্বাইন্ড গ্রাজুয়েট লেভেল সহ টিডিপিএলের নেওয়া যাবতীয় পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে নেওয়া ওই সংস্থার যাবতীয় পরীক্ষার দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতেই ২৪ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাত।
ঝাড়খণ্ডে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় আগেই সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। সোমবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তকে লিখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা বিজেপি-আরএসএসের হাতে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করলেও শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের সুপারিশ করেছেন।