Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রেপ্তার মেদিনীপুর পুরসভার আর এক কাউন্সিলার

মেদিনীপুর পুরসভার কাউন্সিলার সুসময় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী। বিস্তারিত পড়ুন।

গ্রেপ্তার মেদিনীপুর পুরসভার আর এক কাউন্সিলার
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ফের মেদিনীপুর পুরসভার এক কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সুসময় মুখোপাধ্যায়। তিনি মেদিনীপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারক তাঁর ৩ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন সকলে কোতোয়ালি থানার সামনে ভিড় জমান এলাকার বহু বাসিন্দা। তাঁদের একাংশের হাতে ছিল পচা ডিম। কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুসময় মুখোপাধ্যায়ের একটি ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে সাদা থান, একাধিক ব্যাঙ্কের পাসবই, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, পুরসভার আবর্জনা ফেলার বিপুল সংখ্যক বালতি, ত্রিপল সহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী। কী কারণে এত বিপুল পরিমাণ সামগ্রী ওই বাড়িতে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দুঃস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন সুসময় মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, ভোটে জেতার পর থেকেই এলাকায় তাঁর প্রভাব ও দাপট বাড়তে থাকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। এরফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছিল। সোমবার রাতে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা কাউন্সিলারের ভাড়া নেওয়া বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালান। তখনই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হয় বলে দাবি তাঁদের। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সামগ্রীগুলি উদ্ধার করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
মেদিনীপুর শহরের এক বাসিন্দার কথায়, আগে বিশ্বনাথ পাণ্ডব গ্রেপ্তার হয়েছিল, এবার দ্বিতীয় উইকেট পড়ল। বেশিরভাগ কাউন্সিলার দুর্নীতিগ্রস্ত। কাটমানি না দিলে বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাজ হতো না।
স্থানীয় বাসিন্দা শমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই ত্রাণসামগ্রী গোপন ঘরে না রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করলে অনেকের উপকার হতো। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হতো না। বিরোধিতা করলেই নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নামমাত্র ভাড়ায় নেওয়া বাড়িতে সরকারি জিনিসপত্র মজুত রাখা হয়েছিল।
ঘটনা নিয়ে মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন চলছে। কেউ বেআইনি কাজ করলে আইন তার নিজস্ব পথে ব্যবস্থা নেবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সরকার মেনে নেবে না।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিকের বক্তব্য, কেউ অন্যায় করলে অবশ্যই শাস্তি পাবে। আইন আইনের পথেই চলবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুর শহরের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ