তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: কথিত আছে মা সতীর বাঁ পায়ের ছাপ রয়েছে পাথরে। সেই থেকেই ৫১ সতী পীঠের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের বোদাগঞ্জের ভ্রমরীদেবীর মন্দির। মূলত ৯০-এর দশক থেকে প্রকাশ্যে আসে এই মন্দিরটি। বছর ভর নিত্যপুজোর পাশাপাশি কার্তিকী অমাবস্যায় দীপান্বিতা কালীপুজোর দিনে এই মন্দিরে মায়ের বার্ষিক পুজো হয় জাঁকজমকের সঙ্গে। প্রতি বছরের মতো এবারও মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে রবিবার রাতে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে এই মন্দিরে পুজোর দিনে ভক্তরা ভিড় জমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো আমলে রাজারা জঙ্গলে শিকারে যাওয়ার সময় এই মন্দিরে পুজো দিয়ে যেতেন। এই মন্দিরে নিত্যদিন পুজোর আয়োজন হয়। দর্শনার্থীদের ভিড়ে গমগম করে। দেবীর চরণে প্রতি শনি, রবি ও মঙ্গলবার ভোগ দেওয়া হয়। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিবার কার্তিকী অমাবস্যায় ধুমধাম সহকারে পুজোর আয়োজন করা হয়। মন্দিরে পুজোয় পাঁঠা বলি দেওয়ার রীতি হয়েছে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। ফলমূল, বলির মাংস সহ মাকে ভোগ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। একসময় এই মন্দিরের দায়িত্বে ছিলেন লালবাবা নামে এক সন্ন্যাসী। দেবীর স্বপ্নাদেশে তিনিই এই মন্দিরের সূচনা করেন। সমস্ত কাজ তিনি নিজের হাতেই করতেন। কয়েক মাস আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। এবার মন্দির কর্তৃপক্ষ এই পুজোর আয়োজন করেছে।
মন্দিরের পুরোহিত রঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা পুজোর আয়োজন করেছি। নিত্যপুজোর পাশাপাশি বার্ষিক এই পুজো সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। ভক্তরা তিস্তা নদীতে স্নান করে মন্দিরে আসেন, পুজো দেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মাখন রায় বলেন, লালবাবা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছোট থেকেই আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আমরা সমস্ত রীতিনীতি মেনেই পুজো করছি।



