নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, মঙ্গলবারের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২লক্ষ ৮৫০০জন অন্নপূর্ণা উপভোক্তার তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা প্রশাসনের। কারণ, ১৩পাতার ফর্ম পূরণ করে জমা নেওয়ার কাজের গতি সেভাবে নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও, পুরসভা থেকে অন্নপূর্ণার ফর্ম বিতরণ চলছে। বিধায়কদের এক হাজার করে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। বিলি হওয়ার পর ফর্ম পূরণ করতেই হিমশিম অবস্থা। তা সংগ্রহ করে ডেটা তৈরির কাজ করতে গিয়ে আবার সার্ভার বিগড়ে যাচ্ছে। তাই প্রাথমিকভাবে ২লক্ষ ৮৫০০জনের অন্নপূর্ণা উপভোক্তার লিস্ট তৈরি নিয়ে প্রশাসন বেশ চাপে রয়েছে। ৩জুন এই জেলার দু’পক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩০০০টাকা করে জমা পড়ার কথা।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকা ঝাড়াই বাছাই করতে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট এক লক্ষ নাম বাদ পড়ছে। সোমবার অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) প্রভাত চট্টোপাধ্যায় এমনটাই জানিয়েছেন। এই জেলায় মোট ১৪লক্ষ ২৮হাজার উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। তাঁদের মধ্যে মৃত, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট ও অস্তিত্বহীন মোট ৭১হাজার নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া, ফর্ম ৭ জমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আরও পাঁচ হাজার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের মধ্যে যাঁদের বয়স ৬০পেরিয়ে গিয়েছে তাঁদের নাম উপভোক্তা লিস্ট থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এভাবে মোট এক লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে বলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) জানিয়েছেন।
আগামী ৩জুন থেকে অন্নপূর্ণা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে। ২জুনের মধ্যে জেলাভিত্তিক টার্গেট বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। তাতে প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুরে ২লক্ষ ৮৫০০জন উপভোক্তার তালিকা ফাইনাল করে রাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ আছে। সেইমতো ২৫টি ব্লক ও পাঁচটি পুরসভায় ফর্ম বিতরণ করা চলছে। সোমবার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি নিয়ে ব্যাপক ঝামেলা হয়। বড়সড় জমায়েত তৈরি হয়। বুথ লেভেল অফিসার, আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিতরণ, পূরণ করার কাজে নেমেছেন। টার্গেট অনুযায়ী দু’লক্ষ উপভোক্তার লিস্ট ফাইনাল করাই প্রশাসনের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা রবিবার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণের কাজে তদারকি করতে জেলায় আসেন। তমলুক মহকুমা শাসক অফিস, সুতাহাটা এবং কোলাঘাটে ওই কাজ পরিদর্শন করে তিনি ফিরে যান। রাজ্যের দেওয়া টার্গেট পূরণ করার নির্দেশও দেন। সেইমতো সোমবার সকাল থেকেই জোর গতিতে ওই কাজ চলে। ফর্মের বহর বেশি হওয়ায় তা পূরণ করে জমা নিতে সময় লাগছিল। ডেটা এন্ট্রি করার কাজে আবার সার্ভার বিগড়ে যাচ্ছিল।
সোমবার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সিউড়ি গ্রামের ৪০বছরের সইদা বিবি, খারুই গ্রামের পঞ্চমী মণ্ডল, বড়গাছিয়া গ্রামের শ্রাবন্তী মণ্ডল বিডিও অফিসে লাইন দিয়ে অন্নপূর্ণার ফর্ম জমা করেন।
সব বিডিও অফিসের সামনে বেশ লাইন পড়ে যায়। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র অফলাইনে ফর্মপূরণ চলছে। পঞ্চমী, শ্রাবন্তীরা বলেন, আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিমে সুবিধা পেতাম। রাজ্য সরকারের নতুন স্কিম অন্নপূর্ণা নিয়ে আশাবাদী। তাই দ্রুত ফর্ম পূরণ করে জমা করতে এসেছি। অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বলেন, ২জুনের মধ্যে আমরা ২লক্ষ ৮৫০০উপভোক্তার নাম ফাইনাল করার চেষ্টা করছি। ৩জুন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। আপাতত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে এক লক্ষ নাম বাদ পড়ছে।