


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: চুক্তির মেয়াদ শেষের আগেই বিষ্ণুপুরে ঐতিহাসিক বিভিন্ন মন্দিরের বাগান কর্মীদের একাংশকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ কর্মীরা। তাঁরা ইতিমধ্যে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া কর্তৃক অধিকৃত বিভিন্ন মন্দিরের বাগান পরিচর্যার জন্য বহু বছর ধরে তাঁরা ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করে আসছেন। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মেয়াদ রইলেও জানুয়ারি মাস থেকেই তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে বিভিন্ন জায়গায় দরবার করার পর ৬জন কর্মীকে কাজে নিযুক্ত করা হলেও এখনও বাকিদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাই তাঁরা বিষয়টি বিষ্ণুপুরের সাংসদকে জানিয়েছেন। এনিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ আটলেও সৌমিত্র খাঁ বলেন, মন্দিরের বাগান কর্মীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি মন্দির কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এদিকে, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তৃণমূলের তন্ময় ঘোষ বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে সাজিয়ে তুলছেন। সেখানে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ঐতিহাসিক মন্দির সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নেও কার্পণ্য করছে। মন্দিরের বাগানের কর্মীদের উপরেও খাঁড়া নামিয়ে আনছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের আমলে তৈরি বহু ঐতিহাসিক মন্দির রয়েছে। যার টানে দেশ, বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। শীতকালে পর্যটকের ঢল নামে বিষ্ণুপুরে। পর্যটকদের কাছে মন্দিরকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে বহু আগে ঐতিহাসিক জোড়শ্রেণি, কালাচাঁদ, জোড়বাংলো, শ্যামরাই, রাসমঞ্চ, নন্দলাল, রাধাগোবিন্দ ও রাধেশ্যাম এই ৮টি মন্দিরের চারপাশে বাগান তৈরি হয়। বাগানের পরিচর্যার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১৬ জন কর্মী রাখা হয়। ২০২৫ সালে এপ্রিল মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত বাগানের ১২জন ঠিকা কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চার মাস পরিচর্যা না হওয়ায় ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছিল মন্দির চত্বর। অনেক আন্দোলনের পর গত বছরের আগষ্ট মাসে ঠিকা কর্মীদের ফের পরিচর্যার কাজে নিযুক্ত করা হয়। তারপর ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করিয়ে পুনরায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে ৬ জন কর্মীকে কাজে নিযুক্ত করা হলেও বাকি ৬জনকে এখনও বসিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যটন প্রেমী বাসিন্দারা বলেন, ঐতিহাসিক মন্দিরের শোভা বাড়ায় এসব বাগানগুলি। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ তার পরিচর্যাতেও উদাসীন। অনিয়মিত পরিচর্যার ফলে মন্দিরের শোভা নষ্ট হচ্ছে। গত বছর প্রায় চারমাস কোনও রকম পরিচর্যা না হওয়ায় ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছিল বাগান। মন্দির চত্বর কার্যত সাপের বাসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবার শুনছি এখন অর্ধেক কর্মীকে বসিয়ে
দেওয়া হয়েছে।