Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

অন্ধ্রপ্রদেশে মহিলা ও কর্মহীনদের জন্য ভাতা চালু হল না দু’বছরেও

ভোট হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। দু’বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, না মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু... কেউ কথা রাখেননি! অথচ দু’জনে একজোট হয়ে ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলেই মহিলাদের দেড় হাজার টাকা করে মাসে দেওয়া হবে।

অন্ধ্রপ্রদেশে মহিলা ও কর্মহীনদের জন্য ভাতা চালু হল না দু’বছরেও
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ভোট হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। দু’বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, না মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু... কেউ কথা রাখেননি! অথচ দু’জনে একজোট হয়ে ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলেই মহিলাদের দেড় হাজার টাকা করে মাসে দেওয়া হবে। কর্মহীন যুবসমাজও পাবে মাসে তিন হাজার টাকা। সেই প্রকল্প চালু হয়নি আজও। ঠিক যেমনটা হয়েছে দিল্লিতে। ভোটের আগে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ধাঁচের অর্থসাহায্যের। নির্বাচনি ইস্তাহারে তা জ্বলজ্বল করছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে ক্ষমতাসীন হয়েছে বিজেপি। তারপরই তারা জানায়, যাদের বিপিএল কার্ড আছে শুধু সেই মহিলারা ভাতা পাবেন। কিন্তু সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি এখনও!

Advertisement

ক্ষমতাসীন হওয়ার ভোট প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপিশাসিত রাজ্যে রাজ্যে। তালিকায় শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি নয়, রয়েছে সদ্য জিতে আসা বিহারও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অথবা কন্যাশ্রীর বিরূপ সমালোচনা করে বিগত একের পর এক ভোটের ময়দানে বড়োসড়ো ধাক্কা খেয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার সেই সব প্রকল্প তারাও চালু রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ভোটপ্রচারে। উপরন্তু ভাতা বৃদ্ধি করার ঘোষণাও করা হচ্ছে বিজেপির তরফে। ঠিক সেই কায়দা মেনেই ২০২৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের প্রচারে চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে জোট বেঁধে মোদির দল বলেছিল, ১৯ থেকে ৫৯ বছর বয়সি প্রত্যেক নারীকে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। নির্বাচনি ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এনডিএ ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৩ হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে প্রত্যেক কর্মহীন যুবক যুবতীকে। ২০২৪ সালের জুন মাসে অন্ধ্রপ্রদেশে সরকার গঠিত হয়েছে এনডিএ-র। কিন্তু এখনও এই দুই ঘোষণার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্ধ্রপ্রদেশের কংগ্রেস সভানেত্রী ওয়াই এস শর্মিলা রেড্ডি বিধানসভায় এই ইস্যুতে বিজেপি জোট সরকারকে চেপে ধরছেন লাগাতার। সম্প্রতি তিনি সরাসরি নরেন্দ্র মোদি ও চন্দ্রবাবুকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘গরিব নারী-পুরুষ আপনাদের বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিল। অথচ ২ বছর পরও এক টাকাও পেল না তারা।’ 
অন্ধ্রপ্রদেশে দীর্ঘকালের প্রধান দাবি এবং নির্বাচনি ইস্যু পোলাভরম সেচ প্রকল্প। ২০২৪ সালে বিজেপি জোটের প্রতিশ্রুতি ছিল, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করবে তারা। ৫৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। অথচ বিগত দুই আর্থিক বছরে দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। বিরোধী কংগ্রেস এবং ওয়াই এস আর কংগ্রেস বলেছে, এভাবে ফান্ডিং চললে কবে শেষ হবে পোলাভরম প্রকল্প? অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী অমরাবতী গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ২ বছরে সেই খাতে দেওয়া হয়েছে ৩২০০ কোটি টাকা। 
বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনি ইস্তাহারে নীতীশ কুমার ও বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি চাকরি তৈরি হবে। অথচ ২০২০ সালেই নীতীশ ঘোষণা করেছিলেন ১৯ লক্ষ করে চাকরি দেওয়ার। তা সত্ত্বেও বিহারে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ২ লক্ষ ৭৭ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য। সবেমাত্র শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৪৬ হাজার পদের জন্য। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিহারের ভাগলপুরে হবে ৫০০ কোটি টাকায় বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই প্রতিশ্রুতিও পালন করা হয়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ