


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় ও ব্রতীন দাস কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: গ্রেটার নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান। গর্বিত উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা। কোচবিহার হোক কিংবা আলিপুরদুয়ার বা জলপাইগুড়ি, নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রাপ্তিতে খুশির জোয়ার রাজবংশী সমাজে। এনিয়ে অনন্ত মহারাজ বলেন, আমাকে এমন একটা সম্মান দেওয়া হবে, ভাবতেই পারিনি। আমি বেশকিছু বই লিখেছি। আমাদের ছেলেরা আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়, অসমে তাঁদের আইন পড়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বহু মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এই সম্মান দিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ।
শনিবার কলকাতায় বঙ্গবিভূষণ সম্মান গ্রহণের পর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে কার্যত দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির এই রাজ্যসভার সাংসদ। যা নিয়ে ভোটের মুখে চরম বেকায়দায় গেরুয়া শিবির। নয়া সমীকরণ দলের রাজবংশী ভোটব্যাংকে কতটা ফাটল ধরাবে, তা নিয়েই এখন অংক কষতে ব্যস্ত উত্তরের বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এমনই যে, জোর গলায় কিছু বলতে পারছেন না গেরুয়া শিবিরের নেতারা।
রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি তথা বিজেপির জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের আমতা আমতা করে প্রতিক্রিয়া, রাজবংশীদের সবাই তো আর অনন্ত মহারাজের অনুগামী নন। রাজবংশী সমাজের আর এক জনপ্রতিনিধি তথা ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনেরও নরম সুরে মন্তব্য, অনন্ত মহারাজ তো আর বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেননি। বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপকবাবুর আশ্বাস, রাজবংশীদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যা করার করছে। আমরা রাজ্যে সরকার গড়তে পারলে রাজবংশীদের উন্নয়নে যা যা করণীয় সবটাই করা হবে।
অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রদান আসলে ‘সামাজিক স্বীকৃতি’ বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। এরসঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য তাঁর। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান হরিহর দাসের। তাঁর বক্তব্য, এই পুরস্কারে রাজবংশী সমাজ খুশি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, অনন্ত মহারাজ সামাজিক ক্ষেত্রে বহু কাজ করেছেন। তাঁকে এই সম্মান দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।
অনন্তর বঙ্গবিভূষণ পাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন। রাজবংশীদের জন্য মোদি সরকার এখনও পর্যন্ত তেমন কিছুই ভাবেনি বলে অভিযোগ তাঁর।
রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে ফের কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছে রাজ্য। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বংশীবদন বর্মন বলেন, এরপর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আর গড়িমসি করতে পারবে না বলে মনে হয়। জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদের অবশ্য দাবি, রাজবংশী ভাষা নিয়ে আমি আগেই সংসদে বলেছি।
অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে মনে করছে উত্তরের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। তাদের মতে, কোচবিহারে প্রায় ৫২ শতাংশ রাজবংশী ভোট রয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় রাজবংশী ভোটের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই ভোটের বেশিরভাগটাই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অনুকূলে যেতে পারে।