Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধায়ক তহবিলের টাকায় কাজ করে নজির তাপসের

বিধায়ক হয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ করার কিছুই থাকে না। বহু বিধায়ক বিশেষ করে বিরোধী দলের বিধায়কদের মুখে তেমন কথা শোনা যায়

বিধায়ক তহবিলের টাকায় কাজ করে নজির তাপসের
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, রানিগঞ্জ: বিধায়ক হয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ করার কিছুই থাকে না। বহু বিধায়ক বিশেষ করে বিরোধী দলের বিধায়কদের মুখে তেমন কথা শোনা যায়। তবে পরিকল্পনা থাকলে বিধায়ক তহবিলের টাকা থেকেই কাজ করা সম্ভব তা দেখালেন রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ লক্ষ, ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তৈরি করেছেন কমিউনিটি হল। বিধায়ক তহবিলের মোট ৩ কোটি ৩০লক্ষ টাকার কাজ শেষ করেছেন। শুধু বিধায়ক তহবিল নয়, এডিডিএ মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার কাজ করিয়েছেন। পাঁচ বছরে তাঁর বিধানসভা এলাকাতেই এডিডিএকে দিয়ে ৩২কোটি টাকার বেশি কাজের নথি তুলে দিয়েছেন বিধায়ক। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য, রানিগঞ্জে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে জোড়া বৈদ্যুতিক চুল্লি, যা মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। 

Advertisement

এবার রানিগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন বদল করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে রানিগঞ্জের পাশের কেন্দ্র আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছে। রানিগঞ্জ ও আসানসোল দক্ষিণ দুই জায়গায় বিধায়ক হিসেবে তাপসবাবু ব্যর্থ বলেই নিজের বিধানসভায় টিকিট পাননি বলে প্রচার করছে বিজেপি। এমনকি তারা বলছে, উন্নয়নের টাকা খরচ করতে পারেননি বলেই তাঁর এই ‘পানিশমেন্ট ট্রান্সফার’। তবে, পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ তাপসবাবু আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছেন। রানিগঞ্জের বিধায়ক হিসেবে কী কাজ করেছেন, এডিডিএকে দিয়ে কত টাকা ব্যয়ে কী কাজ করিয়েছেন তার বিস্তারিত নথি সামনে এনেছেন।
তাপসবাবুর দাবি, অণ্ডাল ব্লক এলাকায় তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি ৯৮লক্ষ ৪০হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে, ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণবঙ্গ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের কমিউনিটি হল। ১৩লক্ষ টাকায় ভাদুর গ্রামের পুকুরের গার্ডওয়াল নির্মাণ হয়েছে। ২৪লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজোড়া হাইস্কুলে শ্রেণিকক্ষ তৈরি হয়েছে। ১৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে খান্দরা গ্রামে চণ্ডী মণ্ডপ নির্মাণ হয়েছে। ১১লক্ষ ৪২হাজার টাকা ব্যয়ে অণ্ডাল গ্রামে কমিউনিটি সেন্টার হয়েছে। 
রানিগঞ্জ শহর এলাকায় ১কোটি ৩০লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রানিগঞ্জ স্পোটর্স অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সুর্বণজয়ন্তী মঞ্চ নির্মাণ হয়েছে। প্রায় ২১লক্ষ টাকা ব্যয়ে রানিগঞ্জের ধোবিপাড়ায় কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে রানিগঞ্জ শহরে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অগ্নিমিত্রা পল বলেন, আসানসোল দক্ষিণে উনি টানা ১০বছর বিধায়ক ছিলেন। তারপরও কেন এত অনুন্নয়ন? 
তাপসবাবু এডিডিএর চেয়ারম্যান ছিলেন। নিজের বিধানসভা এলাকায় একাধিক বৃহৎ প্রজেক্টের কাজ হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিদায়ী বিধায়কের দাবি, তিনি এডিডিএর মাধ্যমে রানিগঞ্জ শহরে ৩১টি হা‌ইমাস্ট আলো বসিয়েছেন। বিধায়ক হওয়ার আগে রানিগঞ্জে কোনো হাইমাস্ট ছিল না। অণ্ডাল ব্লকজুড়েও  এডিডিএর পক্ষ থেকে ২৫টি হাইমাস্ট আলো দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বহু রাস্তা, ড্রেন তৈরি করেছে এডিডিএ। তাপসবাবু বলেন, রানিগঞ্জে বেশিরভাগ সময় সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। তাঁরা শহরের কোনো উন্নয়ন করেননি। পাঁচ বছরে কী উন্নয়ন হয়েছে মানুষ তার সাক্ষী রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ