Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমতার খড়িয়পের শ্মশান কালীপুজো ২০১ বছরে পা দিল

আমতার খড়িয়পের শ্মশান কালীপুজো ২০১ বছরে পা দিল
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আমতার খড়িয়প গ্রামে দ্বিশতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শ্মশান কালীর পুজো ছিল শনিবার। এই পুজো উপলক্ষ্যে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী মহা মেলা। খড়িয়প শ্মশান কালীমাতা পুজো কমিটি পরিচালিত এই পুজোর এ বছর ২০১ তম বর্ষ। পুজো কমিটি সূত্রে খবর, শনিবার ধূমধাম করে পুজোর পর রবিবার রাতে মন্দিরের পাশের পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। পুজো উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও যাত্রানুষ্ঠান, অন্নকূট উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কথিত আছে, ১৮২১ সালে এই গ্রামে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছিল বিসূচিকা রোগ। এই রোগে মৃত্যু হয় বহু মানুষের। সেই সময় এক রাতে গ্রামের ধর্মপ্রাণ বাসিন্দা রামশঙ্কর বসুর ছেলে বৈদ্যনাথ বসু স্বপ্নে দেখেন, মা জগদম্বা কালীমূর্তি ধারণ করে তাঁকে পুজো করার আদেশ দেন। এই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভাই কাশীনাথ বসুকে নিয়ে খড়িয়পের কালীশঙ্কর বিদ্যাভূষণের বাড়িতে যান বৈদ্যনাথ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাধানগরের গুরুপ্রসাদ আগম সিদ্ধান্ত। তাঁরা তাঁকে মা কালীর পুজো করার কথা বলেন। এরপরেই গ্রামবাসীদের উদ্যোগে খড়েগশ্বর শিবমন্দিরে মাতৃঘট স্থাপন করে পুজো হয়। পরের বছর অগ্রহায়ণের অমাবস্যায় পুনরায় ঘট স্থাপন করে মা কালীর পুজো করা হয়। তবে শিবমন্দিরের ওই জায়গাটি ছোট হওয়ায় পণ্ডিত ও সুধীজনের পরামর্শে পরের বছর গ্রামের পূব দিকে যেখানে ভাগাড় ও শ্মশান ছিল, সেখানে মায়ের পুজো শুরু হয়। তারপর থেকেই বারোয়ারি পুজোর আকার নেয় শ্মশান কালীর পুজো। এই পুজোকে কেন্দ্র করে মেলা, যাত্রার আয়োজন হয়। পুজো কমিটি সূত্রে খবর, ১৮২৪ সালে মায়ের পাকা মন্দির নির্মাণ হয়। সেই তথ্য মন্দিরের বাইরের ফলকে খোদিত রয়েছে। কমিটির বক্তব্য, বর্তমানে এই মেলা লোক উৎসবের চেহারা নিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ