Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

আমিষ-নিষিদ্ধ নগরী

আমিষ-নিষিদ্ধ নগরী
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
অনুষ্ঠান বাড়ির নেমন্তন্ন পেয়ে আনন্দে মনটা নেচে উঠল। কিন্তু গিয়ে দেখলেন, সব খাবারই নিরামিষ। যাহ! নিমেষে সব আনন্দ মাটি। ভোজনরসিক বাঙালির কাছে তো সেটাই স্বাভাবিক। জানেন কি, অবিকল একইধরনের হতাশা আপনাকে গ্রাস করতে পারে গুজরাতের পালিতানায়। ভাবনগর জেলার অন্তর্গত এই শহরে মাংস-ডিম সহ যাবতীয় আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খাওয়া ও বেচাকেনা দু’টোই কঠোরভাবে বন্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে প্রশাসন। বিশ্বের আর কোনও শহরের এমন নজির নেই। নিরামিষ বনাম আমিষের এই লড়াই দীর্ঘদিনের। জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা নিরামিষ ইদানীং আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কখনও স্বাস্থ্যচর্চা আবার কখনও ধর্মের হাত ধরে নিজের অস্তিত্ব জাহির করছে সে। পালিতানার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টা প্রযোজ্য হবে। ধর্ম-ভক্তির নিরিখে পালিতানা সাধারণ শহর নয়। জৈনদের অন্যতম পবিত্র তীর্থভূমি এই অঞ্চলের ডাকনাম ‘জৈন মন্দিরের শহর’। শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই শহরে বিখ্যাত আদিনাথ সহ ছোট-বড় ৮০০ জৈন মন্দির রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রায় ২০০ জৈন সন্ন্যাসী এই শহরের প্রায় ২৫০টি কসাইখানা বন্ধের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন। সেই আন্দোলনেরই ফসল এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা।
Advertisement
পালিতানাকে দৃষ্টান্ত করে সেই পথে হাঁটছে গুজরাতের রাজকোট, ভদোদরা, আমেদাবাদের মতো বড় শহরও। পালিতানার মতো কঠোর না হলেও রাজকোট প্রশাসনও আমিষের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জনসমক্ষে আমিষ খাবার তৈরি ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ওই শহরে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ