Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেই ট্রাম্পকে ফোনে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি, কী কথা হল দু’জনের?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেই ট্রাম্পকে ফোনে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি, কী কথা হল দু’জনের?
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর: আমেরিকার মসনদে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নির্বাচনে কার্যত ধরাশায়ী ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস। গোটা আমেরিকাতেই এখন বইছে ‘ট্রাম্প-ওয়েভ’। এই আবহে ট্রাম্পকে ফোনে শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেশ কিছুক্ষণ বার্তালাপও হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, শুভেচ্ছা পাওয়ার পরই মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ভারত একটি অভূতপূর্ব দেশ। ভারত এবং মোদিকে তিনি সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেন। সূত্রের আরও খবর, দুই নেতা পৃথিবীতে শান্তি ফেরাতে একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
Advertisement
ট্রাম্পের সঙ্গে বার্তালাপের পরই মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, “বন্ধু ট্রাম্পের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তাও জানিয়েছি। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুদ করতে একসঙ্গে কাজ করব।”
আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ট্রাম্প। দীর্ঘদিন পর একযোগে সেনেট, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও হোয়াইট হাউসের ‘ত্রিফলা’ জয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতাদখল করছে রিপাবলিকান শিবির। জয় নিশ্চিত হতেই আমেরিকায় ‘স্বর্ণযুগ’ আনার প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের গলায়। আর প্রথম ভাষণেই ঘোষণা করেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করব। পৃথিবীকে শান্তির পথে ফেরাব।’ এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিশ্ব। রাশিয়া বনাম ইউক্রেন, ইজরায়েল বনাম হামাস-ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষ হবে শীঘ্রই? জল্পনা চরমে।
প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের এই প্রত্যাবর্তন সত্যিই ঐতিহাসিক। চার বছর আগের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। যদিও পরাজয় মানতে চাননি। পরে আদালতে ধাক্কা খেলেও তাঁর ‘একরোখা’ মানসিকতার কারণে ঘটে যায় ক্যাপিটল হিংসার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা। পর্নতারকা কাণ্ড সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন ট্রাম্প। তবে এখনও পর্যন্ত সাজা ঘোষণা হয়নি। পরবর্তী শুনানি হবে ২৬ নভেম্বর। যদিও দু’বার আততায়ীর হামলা হয়েছে তাঁর উপর। প্রচারপর্বে একবার কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে গুলি। এত কিছুর পরও কোনও নেতার ফের ক্ষমতার শীর্ষপদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়াটা আশ্চর্যের বই-কি! এই নিরিখে ১৩২ বছরের পুরনো নজির স্পর্শ করেছেন ট্রাম্প। মাঝে একবার হেরেও দু’বার আমেরিকার মসনদে বসার রেকর্ড এতদিন ছিল একমাত্র গ্রোভার ক্লেভল্যান্ডের দখলে। তিনি ছিলেন আমেরিকার ২২তম (১৮৮৫-’৮৯) ও ২৪তম (১৮৯৩-’৯৭) প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় জুড়ে গেল ট্রাম্পের নাম। এদিন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ উইসকনসিনে জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোটের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। আর তারপরেই ফ্লোরিডার পাম বিচ কনভেনশন সেন্টারে সমর্থকদের নিয়ে মেতে ওঠেন বিজয় সমাবেশে।
সম্পর্কিত সংবাদ