


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: এ-যেন বুদ্ধি খাটিয়ে গাছ কাটা! গাছের গুঁড়িটুকু আছে। বাকি অংশ কেটে মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক লহমায় দেখলে মনে হবে ওই তো দাঁড়িয়ে আছে গাছ! কিন্তু ভালো করে তাকালেই গোটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। অনেকে বলছেন, আইন বাঁচিয়ে বুদ্ধি করে গাছ কাটছে রেল! এই চিত্র নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের। চলছে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ। সেই কারণে নামমাত্র একটি বা দু’টি ডাল রেখে গাছের বাকি সব ডালপালা অবাধে কেটে ফেলা হচ্ছে। স্টেশনের ১ ও ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে নির্বিচারে এইভাবেই চলছে বৃক্ষনিধন। দিনের পর দিন উন্নয়নের নামে যেভাবে বিভিন্ন পুরনো সব গাছের ডাল কেটে ফেলা হচ্ছে, তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা। ইতিমধ্যেই দেবদারু ও আম সহ তিনটি গাছের অধিকাংশ ডাল কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও একটিমাত্র ডাল নিয়ে গাছের মূল কাণ্ডটি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
একসময় প্রখর রোদ থেকে বাঁচতে স্টেশনের এই গাছগুলির ছায়ায় আশ্রয় নিতেন ট্রেন ধরতে আসা অপেক্ষারত যাত্রীরা। সোমবার সকালে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল অন্য চিত্র। ১নম্বর প্ল্যাটফর্মের অবসর কক্ষের সামনে একটি পুরনো দেবদারু গাছ এবং জিআরপি অফিসের সামনে একটি আমগাছ কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে আরও একটি আমগাছের ডাল কাটা হয়েছে। এই তিনটি গাছের ডালপালা নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, ১ ও ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে বেশকিছু গাছের ডাল পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে।
শ্রীরামপুরের বাসিন্দা ভরত সরকার সকালে হাঁটতে এসেছিলেন। তাঁর বাড়ি নবদ্বীপ সংলগ্ন পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানা এলাকায়। ভরতবাবু বলেন, গাছের ডাল কাটার বিষয়টি ভালোভাবে দেখছি না। এইভাবে না কাটলেই ভালো হতো। রোদ-গরমের সময় মানুষ কোথায় বসবে? ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীরা এই গাছগুলির ছায়ায় একটু বসতেন বা দাঁড়াতে পারতেন। বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল। নবদ্বীপের ভট্টপাড়ার বাসিন্দা বছর সাতাশির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী কিঙ্কর ঘোষ বলেন, ছোট থেকেই ওই গাছগুলি দেখে আসছি। কিন্তু উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছের ডালগুলি এইভাবে কেটে দেওয়ার ফলে সমূহ বিপদ হবে। এমনিতেই গরম বাড়ছে। এর ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়বে।
হাওড়া-কাটোয়া সুবাবার্ন প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক সৌমেন অধিকারী বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে গাছ। যেভাবে এই গাছগুলির ডাল কেটে ফেলা হয়েছে, অচিরেই পরিবেশ দূষিত হবে। এই গাছ কাটার তীব্র বিরোধিতা করে আমরা আন্দোলনে নামব।
নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এখন ঝড়ের সময়। শুধু স্টেশন নয়, লাইনের ধারে থাকা গাছগুলি ঝড়ের সময় ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাইনে পড়ে ট্রেন চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তাই সেগুলি ‘ক্লিন’ করা হয়েছে। রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টিআরডি দপ্তর, অর্থাৎ যারা ওভারহেড লাইন দেখে, তাদের নিয়ে একটা ইন্সপেকশন করা হয়েছে। সেজন্য হায়ার অথরিটির নির্দেশে আমাদের সেগুলি ক্লিন করতে হচ্ছে। আমরা পুরো গাছ কাটছি না।
উল্লেখ্য, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে হাওড়া ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির মধ্যে নবদ্বীপ ধাম অন্যতম। যাত্রীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে তাকিয়ে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র