নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় একজোট বিরোধীরা। মঙ্গলবারও দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভার অধিবেশন। কাগজ ছিঁড়ে স্পিকারের চেয়ারের সামনে ওড়ানো, ওয়েলে নেমে প্রবল প্রতিবাদের জেরে কংগ্রেসের সাত এবং সিপিএমের এক সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হল। যার প্রতিবাদে গর্জে উঠল বিরোধীরা। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কতজনকে সাসপেন্ড করে দেখি। কোনোভাবেই এই ইস্যুতে বিজেপিকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।
রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তৃতায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতেই দেওয়া হল না বলেই কংগ্রেসের অভিযোগ। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। তাই প্রতিবাদে পাশে দাঁড়াল তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরএসপি, সিপিএমের মতো বিজেপি বিরোধীরা। রাহুলকে বলতে না দেওয়ায় বিরোধী দলের কেউই আর অংশ নিল না। বলার জন্য শতাব্দী রায়ের নাম ডাকা হলেও সভায় তখন উপস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে জানান, বলতে হবে না। বিরোধীদের এ ব্যাপারে একজোট হওয়াই দরকার। আজ, বলার কথা ছিল দলের দুই বক্তা জুন মালিয়া এবং সায়নি ঘোষের। তাঁরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন না। উলটে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাবি ভাষণের সময় ওয়েলে নেমে প্রবল প্রতিবাদ হবে বলেই ঠিক করেছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলাদা করে কথা বলতেও দেখা যায়।
সোমবারের মতো এদিনও বেলা ১২টায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন আলোচনায় রাহুল গান্ধী ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে বলা শুরু করেন। এমনকি ডোকা-লায় চীনের আগ্রাসন ইস্যুতে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাবানের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল জানান, যে পত্রিকায় চীনের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গ প্রকাশিত, সেই অংশটি আমি সংসদের সামনে আমার চিঠি সমেত অথেনটিকেট করছি। আমায় বলতে দিন। বিষয়টি সমালোচনার নয়। দেশের নিরাপত্তার। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সমঝোতা করেছেন তা বলতেই হবে।
যেই না প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তোলা, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে ওঠেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। বলেন, মাননীয় স্পিকার বলে দিয়েছেন, এই বিষয় বলা যাবে না। তা সত্ত্বেও আপনি কথা শুনছেন না? এটা ঠিক নয়। সভায় তখন উপস্থিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রাহুলকে বাধা দেওয়ায় পালটা প্রতিবাদ করে কংগ্রেস। স্পিকারের আসনে তখন প্যানেল অব স্পিকারস তেলুগু দেশম পার্টির কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের মানিক্কম টেগর, হিবি ইডেনের বিতর্ক বাঁধে।
তিনি রাহুলকে আর বলতে না দিয়ে অন্য দলের সাংসদদের বলার জন্য নাম ডাকতে শুরু করে দেন। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বিরোধীরা। ওয়েলে নেমে কাগজ ছুড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। হট্টগোলের জেরে সভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়। পরে বেলা তিনটেয় ফের একই ঘটনা ঘটে। এরপরই আট সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তাই প্রতিবাদে আজ আরও সোচ্চার হবে বিরোধীরা। তারই মধ্যে এসআইআর ইস্যুতেও সংসদের অন্দরে বিক্ষোভ
দেখাবে তৃণমূল।



