


নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’কে (টিআরএফ) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তকমা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তকে শুক্রবার স্বাগত জানিয়েছে ভারত। গোটা বিষয়টিকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত-মার্কিন যৌথ বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এদিকে, আমেরিকার এই পদক্ষেপের পরেই সরব হয়েছে চীনও। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার কথা শোনা গিয়েছে বেজিংয়ের গলায়। জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের অন্যতম ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের মুখে এহেন বার্তা ‘বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের উপর হামলার দায় স্বীকার করে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার স্থানীয় সংগঠন হিসেবেই তারা কাজ করে। হামলার পর থেকে জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। সাহায্যকারী সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও এখনও পর্যন্ত ধরা পড়েনি চার হামলাকারী। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণাকে ‘সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের তরফে টিআরএফকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’-র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় পর এটাই ভারতের আম জনতার উপর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা। পহেলগাঁও ছাড়াও একাধিকবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর হামলায় নাম জড়িয়েছে টিআরএফের।
‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োকে ধন্যবাদ জানান বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও জঙ্গি সংগঠনগুলির পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতাকে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। জঙ্গি সংগঠন ও তাদের ছায়া সংগঠনগুলির মোকাবিলায় সব সময় অন্য দেশগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে তৈরি ভারত।’
চীনের বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘গত ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলা সহ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কড়া নিন্দা করছে চীন।’ আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি জঙ্গি মোকাবিলায় সব দেশকে একজোট হওয়ার কথাও শোনা যায় লিনের মুখে।