


নিয়দিল্লি: মনিকা কাপুর। আমেদাবাদের ব্যবসায়ী। ভারতে আর্থিক অপরাধ করে পালিয়েছিলেন আমেরিকা। প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, ব্যবসায়িক কেলেঙ্কারি, এমনই একাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ভারতের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২৫ বছর বিদেশে ছিলেন। অবশেষে মনিকার প্রত্যর্পণে রাজি হয় আমেরিকা। বুধবার সিবিআই দেশে ফেরাল তাঁকে।
নীরব মোদি থেকে বিজয় মালিয়া, আর্থিক কেলেঙ্কারির পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনকে। আইনের মারপ্যাঁচে বারবার গা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন এই প্রতারকরা। এই দলেরই অন্যতম মনিকা। টানা আড়াই দশক ভারতের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমেরিকায় ছিলেন। আমেদাবাদের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ লম্বা। দুই ভাইয়ের সঙ্গে মিলে গয়না আমদানি-রফতানির ব্যবসা করতেন। আর সেখানেই চলত জালিয়াতির কারবার। কেন্দ্রের কর ফাঁকি দিতে নানা ফন্দি এঁটেছিলেন মনিকা। বিভিন্ন নথি জাল করে চলত এই ফাঁকির কারবার। শিপিং বিল থেকে ব্যাঙ্ক সার্টিফিকেট সবকিছুর নকল ছিল তাঁদের কাছে। মূল হাতিয়ার হিসেবে ছিল একটা লাইসেন্স। অবশ্যই ভুয়ো। পরে এই লাইসেন্সও তাঁরা বিক্রি করে দেন। কিন্তু ততদিনে সরকারের প্রায় দু’কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। জালিয়াতির বিষয়টা সামনে আসতেই দেশ ছাড়েন মনিকা। ২০০৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হয়। আদালতে মামলা শুরু হয়। দিল্লির স্পেশাল কোর্ট ২০১০ সালে মনিকার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। মার্কিন সরকারের কাছে মনিকাকে প্রত্যপর্ণের অনুরোধ জানায় কেন্দ্র। ২০১২ সালে তাতে সায় দেয় আমেরিকা। মার্কিন আদালতে
পাল্টা আবেদন জানান মনিকা। যদিও
সেই আবেদন খারিজ হয়। তাতেও দমেননি মনিকা। সে দেশেই টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যান। ছবি: পিটিআই