নয়াদিল্লি: ২০০২ সাল। গোষ্ঠী হিংসায় জ্বলছে গুজরাত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাশে বাসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন সেদিনের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ি। ‘রাজধর্ম’ পালনের গুরুদায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে। বুধবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ির জন্মশতবর্ষ পালনের দিনই দিল্লিতে বৈঠক হল এনডিএ শিবিরের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার বাসভবনের সেই বৈঠকে থাকলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে ছিলেন অমিত শাহ। ঘটনাচক্রে, আম্বেদকরকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো বেকায়দায় মোদি সরকার। সূত্রের খবর, বর্তমান সরকারের ‘প্রাণভ্রমর’ দুই শরিক নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমারও ‘শাহি মন্তব্যে’ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে আম্বেদকর ইস্যুতে চাপ কমাতে শাহর সামনেই শরিকদের ‘বার্তা’ দিলেন নাড্ডা। বিজেপি সভাপতি বললেন, বিভেদের চেষ্টা অনেক হবে। আমাদের কিন্তু ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকতে হবে। শরিকরাও স্পষ্ট জানিয়ে রাখলেন, দলিতদের ক্ষোভের আঁচ যেন আমাদের পোহাতে না হয়। তাঁদের স্বার্থরক্ষায় বেশি করে প্রকল্প নিতে হবে।
Advertisement
বিজেপিরএত চিন্তান্বিত হয়ে শরিকদের তুষ্ট করতে মরিয়া হওয়ার কারণ হল, জোটের সিংহভাগ দলের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক দলিত ও অনগ্রসর জাতি। শাহের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভের প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র এদিনের এনডিএ বৈঠকে অংশ নেবেন বলেই দিল্লি এসেছেন টিডিপি নেতা তথা অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা নীতীশ কুমার না এলেও দলের তরফে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। ছিলেন আপনা দলের নেত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী, বিহারের হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার নেতা জিতনরাম মাঝি, আরএলএম সভাপতি উপেন্দ্র কুশওয়া, উত্তরপ্রদেশের নিশাদ পার্টির প্রধান সঞ্জয় নিশাদ।
এমনিতে বলা হচ্ছিল ওয়াকফ বিল, এক দেশ এক নির্বাচনের মতো ইস্যুগুলিতে আলোচনা ও জোট-সমন্বয়ের কৌশল নির্ধারণ এই বৈঠকের এজেন্ডা। কিন্তু বাস্তবে আম্বেদকর ইস্যুতে শরিকি ক্ষোভের কারণে ড্যামেজ কন্ট্রোলই যে বিজেপির আসল উদ্দেশ্য, সেবিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। বৈঠকের পর বিজেপি সভাপতি নাড্ডা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আজ নয়াদিল্লিতে এনডিএ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত নজিরবিহীন বিভিন্ন মাইলফলক অর্জন করে চলেছে এবং বিশ্ব মহাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। প্রত্যেকের জন্য আরও উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এনডিএ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নিশাদ পার্টির প্রধান সঞ্জয় নিশাদ বলেন, ‘বৈঠকে জোট-কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনগুলিতে আমাদের জোটবদ্ধভাবে লড়তে হবে। মৎস্যজীবীদের জন্য সংরক্ষণের ইস্যু বৈঠকে তুলেছি। দাবিপত্র পেশ করেছি।’ আম্বেদরকর প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন সতর্ক শরিক নেতা।
এমনিতে বলা হচ্ছিল ওয়াকফ বিল, এক দেশ এক নির্বাচনের মতো ইস্যুগুলিতে আলোচনা ও জোট-সমন্বয়ের কৌশল নির্ধারণ এই বৈঠকের এজেন্ডা। কিন্তু বাস্তবে আম্বেদকর ইস্যুতে শরিকি ক্ষোভের কারণে ড্যামেজ কন্ট্রোলই যে বিজেপির আসল উদ্দেশ্য, সেবিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। বৈঠকের পর বিজেপি সভাপতি নাড্ডা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আজ নয়াদিল্লিতে এনডিএ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত নজিরবিহীন বিভিন্ন মাইলফলক অর্জন করে চলেছে এবং বিশ্ব মহাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। প্রত্যেকের জন্য আরও উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এনডিএ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নিশাদ পার্টির প্রধান সঞ্জয় নিশাদ বলেন, ‘বৈঠকে জোট-কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনগুলিতে আমাদের জোটবদ্ধভাবে লড়তে হবে। মৎস্যজীবীদের জন্য সংরক্ষণের ইস্যু বৈঠকে তুলেছি। দাবিপত্র পেশ করেছি।’ আম্বেদরকর প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন সতর্ক শরিক নেতা।



