নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সরকারি ভবন কিংবা কোনও স্কুল নয়, সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে ‘পাড়ায় সমাধান’ ক্যাম্প হল ক্লাব প্রাঙ্গণে! শুক্রবার রানাঘাট ১ ব্লকের পায়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের এই শিবিরকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক পদে না থাকা সত্বেও সরকারি সেই মঞ্চে তৃণমূল নেতার উপস্থিতিও ঘি ঢেলেছে সেই বিতর্কের আগুনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পায়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের প্রীতিনগরে ছিল ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ ক্যাম্প। রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার ৯০, ৯৯, ১০০ এবং ১০২ নম্বর বুথের জন্য সেই ক্যাম্প হওয়ার কথা স্থানীয় কোনও সরকারি ভবন অথবা স্কুলে। সরকারি নির্দেশিকা অন্তত তেমনই। অথচ, বাস্তবে সেই ক্যাম্প করা হয় পাড়ার ক্লাবে! প্রীতিনগর ভূদেব স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার সেই ক্লাবে রীতিমত সাজিয়ে তুলে শিবির বসানো হয়। স্থানীয়রা বলছেন, পাশেই ছিল প্রীতিনগর ১ জিএসএফপি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তা সত্বেও কেন ক্লাবে সরকারি ক্যাম্প করতে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কের শেষ এখানেই নয়, সরকারি সেই মঞ্চে দেখা যায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা তারক বিশ্বাসকেও। যিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। কোনও সরকারি পদেও নেই। ফলে কেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সরকারি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারকবাবু আবার স্থানীয় ঠিকাদারও। ফলে, উপস্থিতিতে বিতর্ক অন্যমাত্রা পেয়েছে।
পায়রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস বলেন, এখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। স্কুল খালি পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেটি স্কুলের লাগোয়া। তাই সেখানে ক্যাম্প করা অসম্ভব। অগত্যা আমাদের স্থানীয় একটি ক্লাবে ক্যাম্প করতে হয়েছিল। ২২ তারিখ উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হচ্ছে। তারপর আবার পুজোর মরশুম চলে আসছে। তাই ক্যাম্প করার সময় পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতিও নেই। কিন্তু, কেন সরকারি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধান বলেন, এটা ঠিক যে উনি ওই মঞ্চে ছিলেন। ওঁকে রাখা হয়েছিল কারণ ওঁর হাতের লেখা ভালো। যেহেতু প্রচুর মানুষের দাবী আমাদের নথিভুক্ত করতে হচ্ছে তাই তা পরিষ্কার এবং স্পষ্টভাবে লেখার জন্যই তারকবাবু মঞ্চে ছিলেন।
রানাঘাট ১ ব্লকের বিডিও জয়দেব মণ্ডল বলেন, ক্লাবে ক্যাম্প আয়োজন হয়নি। ক্লাবের পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় হয়েছিল। আর মঞ্চে কোনও তৃণমূল নেতা ছিলেন কিনা আমি জানি না। অন্তত আমি যতক্ষণ ছিলাম ততক্ষণ এরকম কেউ ছিলেন না। পরে কি হয়েছে বলতে পারব না।।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, ক›দিন বাদে নবান্নটাও পাড়ার ক্লাবে ক্লাবে চলে যাবে। কারণ, তৃণমূল আমলে ক্লাবগুলো তো আবার তথাকথিত সমাজসেবীদের আখড়া। যদিও পাল্টা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, বিজেপি বাংলায় বারবার হারতে হারতে হীনমন্যতায় ভুগছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে। এটা তারা মেনে নিতে পারছে না। ক্লাবে চলছে ‘আমাদের পাড়া’ শিবির। নিজস্ব চিত্র