নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেলের রেকে করে ভিন রাজ্যে আলু পাঠালে প্রতি কুইন্টালে ১০০ টাকা করে ভরতুকি দেওয়া হবে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমনই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রাজ্য কৃষি বিপণন দপ্তর। কিন্তু এক মাস কেটে যাওয়ার পরেও এই ভরতুকির সুযোগ ব্যবসায়ীরা নেননি বলে জানা গিয়েছে। রেকে করে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো হয়নি ওই বিজ্ঞপ্তির পর। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়ার কথা। এদিকে হিমঘরগুলিতে এখনও চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি আলু মজুত রয়েছে। খুব কম দামে হিমঘর থেকে আলু বার হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
আলুর বাম্পার ফলনের জন্য এবার হিমঘরগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ মজুত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি আলু মজুত থাকার কারণে দাম পড়ে গিয়েছে। ১০০ কেজির আলুর বস্তার বন্ড এখন ৩০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে (কেজি প্রতি ৩ টাকা)। হিমঘরের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ করে আলু বার করলে কেজিতে ৮ টাকার মতো দাম মিলছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে অভিযোগ। এখনও রাজ্যের হিমঘরগুলিতে প্রায় ২৭ লক্ষ টন আলু মজুত আছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হিমঘর চালু থাকে। সেই মেয়াদ সরকার এক মাস বাড়ালেও ডিসেম্বরের শেষে হিমঘরে সব মিলিয়ে ৭ লক্ষ টন আলু রয়ে যাবে বলে আলু ব্যবসায়ীদের সংগঠনের আশঙ্কা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভিন রাজ্যে আলু সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সেটা যাচ্ছে ট্রাকে। ট্রাকে আলু পাঠালে সরকারি ভরতুকি মিলবে না। যদি তা দেওয়া হত, তাহলে আরও কিছু বেশি পরিমাণে আলু বাইরের রাজ্যে পাঠানো যেত। আগে ট্রাকে আলু পাঠালেও ভরতুকি দিয়েছে সরকার। এবার শুধু রেকে পাঠালে ভরতুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু রেকে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে নানারকম অসুবিধা আছে। রেক পয়েন্টে ট্রাকে করে আলু পাঠাতে হয়। রেক গন্তব্যে পৌঁছানোর পরেও ফের ট্রাকে আলু তুলতে হয়। এর জন্য যে খরচ হবে, তার উপর কোনো ভরতুকি নেই। তাছাড়া, রেকে বেশি পরিমাণ আলু একসঙ্গে যাওয়ায় তা নেওয়ার চাহিদা কম থাকে। সরকারি ভরতুকির নির্দেশিকা জারি হওয়ার আগে হাতেগোনা কয়েকটি রেক এ রাজ্য থেকে গিয়েছে। নির্দেশিকার পর আর কোনো রেক যায়নি।



