Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেনা মাঠে খেলতে নেমে আত্মবিশ্বাসী অলোক মাঝি

চেনা মাঠে খেলতে নেমে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের অলোক মাঝি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন

চেনা মাঠে খেলতে নেমে আত্মবিশ্বাসী অলোক মাঝি
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গলসি: চেনা মাঠে খেলতে নেমে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের অলোক মাঝি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরের নির্বাচনে তাঁকে জামালপুরে পাঠানো হয়। সেখানেও জয়ী হয়েছিলেন। জামালপুর থেকে এবার তাঁকে ফের গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই এলাকার প্রতিটি গ্রাম চিনি। মানুষজনও পরিচিত। তাছাড়া যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্র নিয়ে আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। 

Advertisement

গলসি বিধানসভাকেন্দ্র তফসিলি অধ্যুষিত। এক সময় ওই গ্রামগুলিতে বিজেপি থাবা বসিয়েছিল। সিপিএমের ভোটাররাই বিজেপি’র দিকে ঢলেছিল। এবার তা যাতে না হয় সেই কারণে ওই সমস্ত এলাকায় প্রচারে জোর দিয়েছেন বাম প্রার্থী মণিমালা দাস। তিনি বলেন, আমিও এক সময় পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি ছিলাম। এই এলাকা হাতের তালুর মতো চিনি। বিজেপি এসসি, এসটি ভোটারদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক সময় ভোট টানার চেষ্টা করেছিল। মানুষ নিজেদের ভুল বুঝেছে। এবার সেটা আর হবে না। 
উচ্চগ্রাম এলাকায় কথা হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দা অমিত দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজেপিকে এক সময় মানুষ ভরসা করেছিল। কিন্তু, ওরা এসসি, এসটিদের জন্য কিছু করেনি। গলসি কৃষিভিত্তিক এলাকা। কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য সরকার অনেক কিছুই করেছে। কৃষকবন্ধু, শস্যবিমার মতো প্রকল্পগুলিতে চাষিরা উপকৃত হয়েছেন। আর এক বাসিন্দা উমা পাত্র বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছি। সেই টাকায় নিজেদের ইচ্ছেপূরণ করতে পারি। কিন্তু, বিজেপি সরকার আমাদের জন্য কী করেছে বলুন তো? 
গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে ৪৯.২১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। বিজেপির ভোট ছিল ৪০.৫৫ শতাংশ। বামেদের ভোট ছিল ১৫.০৮ শতাংশ। এই কেন্দ্রে এবার তৃণমূল প্রার্থী বদল করেছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবর ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দেয়। এবার সিপিএম এ‌ই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি’ও এই কেন্দ্রে এসসি এবং এসটি ভোট টানার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছে। দলের প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন, প্রতিটি গ্রামে প্রচারে যাচ্ছি। সব জায়গাতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে গলসি এলাকায় সব থেকে বেশি ধান উৎপাদন হয়। এই এলাকার বাসিন্দারা আর্থিকভাবে যথেষ্টই সমৃদ্ধশালী ছিলেন। কিন্তু, রাজ্য সরকার কৃষির প্রতি নজর না দেওয়ায় চাষ পিছিয়ে গিয়েছে। সার্বিকভাবে ধান উৎপাদনে রাজ্য দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছে। 
স্থানীয়রা অবশ্য বলছেন, বিজেপি রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করলেও কৃষির উন্নয়নই এই এলাকায় তৃণমূলের কাছে বড় হাতিয়ার। সেচের ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। চাষিরা এখন সহায়ক মূল্য ধান বিক্রি করতে পারেন। তাই বিজেপির এই ইস্যু তেমন কাজে লাগবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ