নয়াদিল্লি: সম্প্রতি লোকসভায় এনডিএকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। এমনকি প্রথমে তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলেও ঘোষণা করেন। যদিও সেই দাবির বৈধতা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলে দিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ পি ডি টি আচারি। লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি আচারি জানিয়েছেন, কাদের ‘আসল তৃণমূলে’র স্বীকৃতি দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে একমাত্র নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীকে কমিশনের কাছে গিয়ে প্রমাণ দিতে হবে যে, তাঁদের দিকেই সিংহভাগ সাংসদ ও বিধায়ক রয়েছেন। সেক্ষেত্রে দলের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ ‘বিদ্রোহী’দের হাতে যেতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদরা লোকসভায় নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে পরিচয় দিতে বা আলাদা আসন চাইতেও পারেন না বলেও জানিয়েছেন আচারি। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহী’রা এখনও আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃত নন। তাই তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা যাবে না। তৃণমূলের জন্য ইতিমধ্যেই আসন বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের এখনও সেই আসনেই বসতে হবে। যদিও রবিবার রাতেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদরা। ফলে এবার তাঁরা সংসদে আলাদা আসন পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়, বিরোধীদের বাধায় সাম্প্রতিককালে কয়েকটি বিল পাশ করাতে পারেনি বিজেপি। ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদরা এনডিএকে সমর্থন করলেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরেই থাকবে শাসক বিজেপি জোট। তবে, রাজ্যসভায় তৃণমূলের তিন সাংসদের ইস্তফার ফলে বিজেপির শক্তি বাড়তে চলেছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে তারা। বর্তমানে রাজ্যসভায় এনডিএ’র সাংসদ সংখ্যা ১৪৮। পশ্চিমবঙ্গে বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের ছেড়ে দেওয়া ওই তিন আসনে বিজেপির জয় নিশ্চিত। এছাড়া ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম সহ আরও কয়েকটি রাজ্য থেকেও রাজ্যসভার সাংসদ পেতে চলেছে এনডিএ। সব মিলিয়ে শাসক জোটের আসন সংখ্যা ১৫৪ হয়ে যেতে পারে। যদি রাজ্যসভায় তৃণমূলের আরও সাংসদ যদি ইস্তফা দেন, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের ম্যাজিক ফিগার ১৬৩ ছুঁয়ে ফেলবে এনডিএ।



