Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হামলা নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’রা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’ দেশগুলিও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করল।

হামলা নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’রা
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’ দেশগুলিও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করল। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণের পর পশ্চিম এশিয়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, বাহরিন ও ওমানের মতো দেশে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়েছে ইরান। ওই দেশগুলির দাবি, ইরানে হামলা নিয়ে তাদের আগাম কিছুই জানানো হয়নি। তাই ইরানের পালটা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে পায়নি তারা। 

Advertisement

এই নিয়ে সরাসরি বিবৃতি না দিলেও দেশগুলির একাধিক শীর্ষ কর্তা জানাচ্ছেন, যে পদ্ধতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন ট্রাম্প, তাতে তাঁরা মোটেও খুশি নন। তাঁরা আমেরিকাকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ শুরু হলে গোটা অঞ্চলেই তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়বে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাও কানে তোলেনি ট্রাম্প প্রশাসন। ওই কর্তাদের মধ্যে একজন জানান, ইরান যখন একের পর এক দেশে পালটা আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন মার্কিন সেনা তাদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারেনি। নিজেদেরই আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এই নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছে, এই অভিযানে শুধুমাত্র ইজরায়েলি ও মার্কিন সেনার সুরক্ষার দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে। ইরানের হামলার জবাব দিতে গিয়ে তাঁর দেশের ‘ইন্টারসেপ্টর’ মিসাইলের সংখ্যা ক্রমশ কমছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধ শুরুর জন্য উসকানি দিয়েছেন বলেও মনে করছেন ওই কর্তারা। সৌদি আরবের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুরকি আল-ফয়সাল বলেন, ‘উনি (নেতানিয়াহু) কোনোভাবে ট্রাম্পকে নিজের বক্তব্য বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন।’
বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য দাবি করেছেন, ‘ইরানের পালটা ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে। কারণ, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ওদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও তৈরির ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে।’ কেলির আরও বক্তব্য, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের সমস্ত আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলির উপর সন্ত্রাসবাদী ইরানি সরকারের এই আক্রমণ প্রমাণ করে যে, আমাদের দেশ ও বন্ধুদের জন্য এই হুমকি দূর করা কতটা জরুরি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ