


সংবাদদাতা, বোলপুর : মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়ে গেলেও বীরভূমের লাভপুর কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি বাম শিবির। শরিক দল ও আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে মতানৈক্যের জেরে জোটে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে রবিবার বীরভূমে একযোগে ১১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, সোমবার থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত লাভপুর কেন্দ্রে কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি সিপিএম।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শরিক দলগুলির সঙ্গে বিশেষ করে আইএসএফের আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের জেরেই এই বিলম্ব। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু করে সিপিএম। কিন্তু লাভপুরে সেই ছবি একেবারেই উলটো। স্থানীয় সিপিএম নেতা-কর্মীর একাংশের বক্তব্য, দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়াল লিখন ও প্রচার শুরু করা উচিত। প্রয়োজনে পরে প্রার্থী প্রত্যাহারের পথও খোলা রাখা যেতে পারে বলে মত তাঁদের।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের আগে পর্যন্ত লাভপুর কেন্দ্রটি সিপিএমের দখলেই ছিল। তবুও এখনও পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ জানান, শরিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াতেই সময় লাগছে। মুরারই ও বোলপুর আসন নিয়েও আইএসএফের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাম শিবিরের অন্দরের খবর, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে বোলপুর আসন বরাবর আরএসপির দখলে ছিল। এরপরেও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এবারও সেখানে আরএসপির প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী লাভপুর আসনটি আইএসএফকে ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু ইতিমধ্যেই বোলপুরে আইএসএফ প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় জোটে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেই জট কাটাতেই এখন তৎপর সিপিএম নেতৃত্ব।
এদিকে বাম-আইএসএফ জোটের প্রার্থী ঘোষণা না হওয়াকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার কটাক্ষ, লড়াইয়ে না থাকলে প্রার্থী দেবে কীভাবে! ওঁদের কে দাঁড়াল তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এটা ওদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ওদের দ্বন্দ্ব কোনওদিনই মিটবে না।