Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ দাপুটে বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে, ডেবরায় শোরগোল

রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজনৈতিক মহলে।

আবাসে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ দাপুটে বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে, ডেবরায় শোরগোল
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল আমলের মতোই বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও উঠছে কাটমানি নেওয়া, তোলাবাজির অভিযোগ। এবার আবাসে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল ডেবরায়। অভিযুক্ত এলাকার দাপুটে বিজেপি কর্মী আফজল খান। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এবং বিডিও অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন সায়রা বিবি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ডেবরার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সায়রা বিবি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ভালভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। সম্প্রতি তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। অভিযোগ, এই খবর পৌঁছানোমাত্রই বিজেপি কর্মী আফজলের দূত (এজেন্ট) পৌঁছে যায় সায়রা বিবির কাছে। শেখ রুবা আলম নামে আফজলের ওই ‘এজেন্ট’ বৃদ্ধাকে হুঁশিয়ারি দেয়, ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। চার হাজার টাকা কাটমানি দিতে হবে। না হলে অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যভাবে টাকা তুলে নেওয়া হবে। এরপরই ভয় পেয়ে ওই টাকা দিয়ে দেন বৃদ্ধা। বুধবার রুবা ও আফজলের নামে ডেবরা থানায় এবং বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধা সায়রা বিবি। শুক্রবার তিনি বলেন, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর ধার-দেনা করে অর্ধেকটা বাড়ি করতে পেরেছি। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার পর কোনোমতে বাড়িটা সম্পূর্ণ করব বলে ভেবেছি। কিন্তু, ওরা আমাকে চাপ দিয়ে চার হাজার টাকা নিয়ে নেয়। ওই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য থানায় এবং বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আফজল খান বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী আমার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করেছে। ওই তৃণমূল নেতা আবাসে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে জেলও খেটেছে। এবিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বা তাঁর স্বামীর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে, ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি প্রদীপ কর বলেন, ‘এই আফজল খানই আমার নামে থানায় ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করে জেল খাটিয়েছে। মানুষই এর বিচার করুক!’ 

Advertisement

ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি কাটমানি-তোলাবাজির বিপক্ষে। আমাদের দলের কেউ এসব কাজ করলে, বহিষ্কার করা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ