পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে সদ্যোজাতের মৃত্যুতে নার্সদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ,  তদন্ত কমিটি গঠন
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: এক সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুললেন পরিবারের সদস্যরা। কর্তব্যরত নার্সদের গাফিলতিতেই ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। সেইসঙ্গে কোনো সিনিয়র চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ। এবিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মৃত শিশুর পরিবার। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

পুরুলিয়ার কেন্দা থানার রাজনোওয়াগড় এলাকার বাসিন্দা অক্ষয় সেন। তিনি পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গত শনিবার লিখিত অভিযোগ করেন। অক্ষয়বাবু অভিযোগে জানান, তাঁর স্ত্রী তারাবতী মাহাত পুরুলিয়া সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। স্ত্রীর প্রসবযন্ত্রনা শুরু হওয়ায় তাঁকে প্রথমে চাকোলতোড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রেফার করে দেওয়া হয় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেখানে কয়েকজন নার্স প্রসূতির পেটে অতিরিক্ত ও ভুলভাবে চাপ দেন। জোরপূর্বক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। ভুলভাবে চাপ দেওয়ার ফলেই বাচ্চার চামড়ার অনেকাংশ ছিঁড়ে যায়। তিনি আরও বলেন,বাচ্চাটাকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। সিনিয়র চিকিৎসক কেউ ছিলেন না। নার্সরাই বাচ্চাটাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে। নার্সরা আমাদের জানায় যে, বাচ্চাটা নাকি প্রসবের দুই তিনদিন আগেই মারা গিয়েছে। কিন্তু তাহলে শিশুর মা কিভাবে সুস্থ রয়েছে। গোটা বিষয়টি জানিয়ে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানাই। অভিযোগ জমা নিলেও রিসিভ দেওয়া হচ্ছিল না। একদিন পর ঝামেলা করায় অভিযোগের রিসিভ কপি পাওয়া যায়। থানাতেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পুরুলিয়ার এমপিকেও বিষয়টি জানিয়েছি। মৃত সদ্যোজাতের ঠাকুমা মমতা সেন বলেন, নার্সদের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর। আগে ওই শিশুর শারীরিক অবস্থা ঠিকই ছিল। গোটা ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী বলেন, একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ওই শিশুটি আগেই মারা গিয়েছিল। সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে আসার পর একটি পচা গলা শিশুর প্রসব করানো হয়। প্রাথমিকভাবে মনে হয় পরিবারের অভিযোগ ঠিক নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।