নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জগৎবল্লভপুরের শ্যামপুর এলাকা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের হাতে অপদস্থ হতে হল এক তৃণমূল নেতাকে। তাঁকে রাস্তার ধারের একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রেখে চলে বিক্ষোভ। গলায় পরানো হয় জুতোর মালা। পাশাপাশি চলে তথাকথিত ‘ডিম থেরাপি’। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যেতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে। পরে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জগৎবল্লভপুর ব্লকের শংকরহাটি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামপুর গ্রামে। অভিযুক্ত শৈলেন সাঁতরা এলাকার তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ওই পঞ্চায়েতের সদস্য বাসু সাঁতরার ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর, একশো দিনের কাজের জব কার্ড এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতি আর রাখেননি তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী রায়ের অভিযোগ, আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘর তো মেলেনি, বর্ষার সময়ে মাথার উপর ত্রিপল চেয়েও কোনো সাহায্য পাইনি। দেবল বিশ্বাস নামে এক বাসিন্দার দাবি, তাঁর নামে জব কার্ড তৈরি হলেও তা কখনও হাতে পাননি তিনি। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, কাগজে-কলমে তাঁর জব কার্ড রয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শুধু আবাস নয়, সরকারি প্রকল্পের নানা সুযোগ-সুবিধা পেতেও টাকা দিতে হত তাঁকে। পাশাপাশি একশো দিনের কাজে অনিয়ম, জব কার্ড আটকে রাখা এবং মজুরির টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগও উঠেছে। এদিন সকাল থেকে জমা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রকাশ্যে। শৈলেন সাঁতরাকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। দেদার ছোড়া হয় ডিম। একই সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ পঞ্চায়েত সদস্য বাসু সাঁতরার বাড়িতেও যান। তিনি বাড়িতে না থাকায় পরিবারের সদস্যদের সামনেই চলে প্রতিবাদ। খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে শৈলেন সাঁতরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জগৎবল্লভপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপম ঘোষের কটাক্ষ, ‘কাটমানি ও তৃণমূল এখন সমার্থক শব্দ। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’