Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, অনাস্থা প্রস্তাব

সাঁকরাইল ব্লকের থানামাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সরকারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিল পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ।

পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, অনাস্থা প্রস্তাব
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইল ব্লকের থানামাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সরকারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিল পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ। পঞ্চায়েতের ২২ জন সদস্যের মধ্যে ১১ জন লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। ফলে এবার হাওড়ার একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ডেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হল।

Advertisement

অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যদের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার একাধিক বেনামী কনস্ট্রাকশন সংস্থার নাম করে প্রধানের ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার ছোটো ছোটো কারখানা, প্রোমোটার এবং জমি-বাড়ি সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব কারণে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হয়েছে। বিদ্রোহী সদস্য শেখর ভৌমিকের দাবি, ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র জমা দেওয়ায় পঞ্চায়েতের ২৪ সদস্যের মধ্যে দু’জনের সদস্যপদ আগেই বাতিল হয়েছে। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ২২। তাঁর অভিযোগ, প্রধান ঘনিষ্ঠ আরও এক সদস্যের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ গত এক বছরে তিনবার জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যদের অভিযোগ, পোদরার এক প্রোমোটারের কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না মেলায় তাঁকে ভয় দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এছাড়াও প্রধানের ঘনিষ্ঠ এক সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক মহিলা ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে পকসো মামলা দায়ের হলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। উপপ্রধান শেখ জাকির হোসেন ও সদস্য মানোয়ার খান বলেন, পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও স্বজনপোষণের কারণেই উন্নয়নমূলক কাজের গতি থমকে গিয়েছে। তাই প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।
অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চায়েত প্রধান আবু মণ্ডল বলেন, তাঁর কাছে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থার নোটিস পৌঁছায়নি। তবে তিনি কোনো দুর্নীতি বা তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, অনাস্থা সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা পড়েছে। নিয়ম মেনে প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রধানকে সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ