সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কোতুলপুরের পর এবার সোনামুখীর একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোনামুখীর সোনাদীপা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির প্রাক্তন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১২লক্ষ ৬হাজার ৮৫৭টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই মর্মে বাঁকুড়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ম্যানেজারের তরফে সোনামুখী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাংকের সোনামুখী শাখার ম্যানেজার বলেন, সোনাদীপা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির প্রাক্তন ম্যানেজার শেখ সারাফত আলিকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কোতুলপুরের চোরকলা-রামডিহা-আশ্বিন কোটা সমবায় সমিতিতে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে ম্যানেজারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেনামুখীর সোনাদীপা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির প্রাক্তন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১২লক্ষ ৬হাজার ৮৫৭টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকবছর আগেই সমিতিতে অডিট করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকার গরমিল ধরা পড়ে। তারপর থেকে গত কয়েক বছর একাধিকবার অডিটেও সেই কথা উল্লেখ করা হয়। এমনকি, সাধারণ মানুষের টাকা ফেরতের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তিনি তা দেননি। অবশেষে ওই সমিতির মাদার ব্যাংক বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ম্যানেজার সম্প্রতি সোনামুখী থানায় সমিতির প্রাক্তন ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাদীপা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে ২০১৬-’১৭ এবং ২০১৭-’১৮ এই দুই আর্থিক বর্ষের অডিটে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ে। ২০১৯সালের অডিট রিপোর্টে তা উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ম্যানেজারকে আর্থিক ক্ষতি মেটানোর কথা বলা হলেও তিনি তা মেটাননি বলে অভিযোগ। তারপরেই তাঁকে সমিতির ম্যানেজারের পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। পরবর্তীকালে সমিতি চললেও দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরকার বদলের পর এবিষয়ে ফের তদন্ত শুরু হয়। শুক্রবার সোনামুখী থানায় এব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আগের সরকারের আমলে তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরেও অভিযুক্ত ওই প্রাক্তন ব্যাংক ম্যানেজারকে কেবল সাসপেন্ড করেই দায় সেরেছিল। সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে। তাই অভিযোগ হয়েছে। দোষীর আইনানুগ শাস্তিও হবে।



