Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সামসুল ধৃত বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজির অভিযোগ

নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজির অভিযোগে তৃণমূল নেতা শেখ সামসুল ইসলাম গ্রেপ্তার। পুলিশের হেপাজতে ৫ দিন। বিস্তারিত পড়ুন।

নন্দীগ্রামে দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সামসুল ধৃত বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজির অভিযোগ
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজি ও হামলার অভিযোগে নন্দীগ্রামের দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সামসুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেন। বৃহস্পতিবার রাত ২টো নাগাদ নন্দীগ্রামের দাউদপুরে বাড়ি থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সামসুল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ। শুক্রবার ধৃতকে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় অভিযোগকারী বিজেপি নেতা আব্বাস বেগ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারেন। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। এদিন ধৃতকে হলদিয়া এসিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের দাপুটে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সামসুল অন্যতম। ২০২৩সালে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে শেখ সুপিয়ানকে বাদ দিয়ে শেখ সামসুল ইসলামকে জেলা পরিষদে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। এজন্য সুপিয়ানের গলায় আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছিল। জয়ের পর সামসুলকে কর্মাধ্যক্ষ করা হয়। ২০১৮-’২৩ মেয়াদে দাউদপুরের প্রধান ছিলেন সামসুল। সেসময় ওই পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য ছিলেন আব্বাস বেগ। তিনি প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি জমির গাছ চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। যার জেরে সামসুলকে দু’মাস জেল খাটতে হয়েছিল। তখন থেকেই দু’জনের সংঘাত চরমে ওঠে। আব্বাস তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এখন তিনি বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের জেলা সাধারণ সম্পাদক।গত ১৭এপ্রিল দাউদপুর পঞ্চায়েতের নয়নান গ্রামে আব্বাসের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়। দু’টি বোমা ফেটে যায়। আরও দু’টি বাড়ির সামনে পড়েছিল। অভিযোগ, ভোটের ফল বেরনোর পর একটি চায়ের দোকানে ফের আব্বাসের উপর হামলা চালায় সামসুল। সেই মামলায় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে সামসুলকে গ্রেপ্তার করে।২০২৪ সালে ৮ডিসেম্বর তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ব্যাংকের নির্বাচন ছিল। নন্দীগ্রাম জোনের সেই ভোট সামসাবাদের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন হাইস্কুলে হয়েছিল। সেই ভোটে সামসুল সঙ্গীসাথীদের নিয়ে বাঁশ দিয়ে বিজেপি কর্মীদের বেদম মারধর করেছিল। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। ওই ভোটে একটি বোমাও পড়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে সেই মামলার তদন্তভার পায় এনআইএ। সেই মামলাতেও সামসুল অভিযুক্ত।
রাজ্যে পালাবদলের পর এপর্যন্ত শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৫জন তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী থেকে শুরু করে ভগবানপুরের পরাজিত প্রার্থী রবিন মণ্ডলের মতো প্রথমসারির নেতারা আছেন। তমলুক শহরের চঞ্চল খাঁড়া, হলদিয়ার আরমান ভোলার মতো বাহুবলী নেতারাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় সামসুলকেই প্রথম গ্রেপ্তার করা হল।আব্বাস বেগ বলেন, সামসুল আপাদমস্তক চোর, চিটিংবাজ নেতা। প্রতিপক্ষ দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মারধর ওর কাছে জলভাত। আমার বাড়িতে বোমা ছুঁড়েছিল।
 ধৃত শেখ সামসুল ইসলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ