Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথপুর পুরসভার দুর্নীতির ফাইল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ

গত ৩ জুলাই রঘুনাথপুর পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে শহর বিজেপি নেতৃত্ব মহকুমা প্রশাসনে কাছে লাল ও নীল রঙের দু’টি ফাইল জমা করেন।

রঘুনাথপুর পুরসভার দুর্নীতির ফাইল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গত ৩ জুলাই রঘুনাথপুর পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে শহর বিজেপি নেতৃত্ব মহকুমা প্রশাসনে কাছে লাল ও নীল রঙের দু’টি ফাইল জমা করেন। তারপর প্রায় ৫০ দিন অতিক্রান্ত হলেও পুরসভার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতৃত্বকে তদন্তের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে তথ্য জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের একটি গোষ্ঠীর দাবি, এখন ফাইল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে যেন পুরসভার বিরুদ্ধে আর কারও কোনো অভিযোগ নেই। তদন্ত নিয়ে মহকুমা প্রশাসনের কোনপ প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement

বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, রঘুনাথপুর পুরসভা টয়লেট, আবাস যোজনা, রাস্তাঘাট, লাইট, পুকুর খননের মতো একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে। পুরসভা ২০১৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি করে গিয়েছে। প্রায় ৮ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। যার যাবতীয় কাগজপত্র মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে পুরসভা থেকে আবর্জনা রাখার জন্য বালতি দেওয়ার নাম করে শহরের সাধারণ মানুষের থেকে আধার কার্ড নেওয়া হয়েছিল। সেই আধার কার্ডকে কাজে লাগিয়ে রঘুনাথপুর পুরসভা প্রত্যেকের নামে শৌচাগার অনুমোদন করেছিল। কিন্তু কেউ শৌচাগার পাননি। সেই শৌচাগারের প্রায় চার কোটি টাকা তৎকালীন তৃণমূল বোর্ড ভাগ করে খেয়ে নিয়েছিল। শহরজুড়ে লাইট লাগানোর নামেও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২৫ টাকার লাইটের দাম বিলে ১০০ টাকা দেখানো হয়েছিল। একইভাবে আবাস যোজনাতে তৃণমূল কাউন্সিলারা নিজেদের আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি নিয়েছে। পুরসভায় কোনো জিনিসপত্র কিনতে হলে একটি পোর্টাল রয়েছে। সেখান থেকে কিনতে হয়। কিন্তু রঘুনাথপুর পুরসভা মোটা টাকা কমিশনে নিজেদের ঠিকাদারদের কাছ থেকে জিনিসপত্র নিয়েছে। বারিক বাঁধের সংস্কারের জন্য ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। যার মধ্যে ২৬ লক্ষ টাকার শুধু মাটি খোঁড়া হয়েছিল। সেই মাটি কোথায় পুরসভা দেখাতে পারবে না। অথচ বিল হয়ে গিয়েছে। আবাস যোজনার ৪৬ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি পায়নি। অথচ সেই টাকা পুরসভা বিভিন্ন কাজে লাগিয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা অন্য কোনো খাতে খরচ করা যায় না। পুরসভা সেই প্রকল্পের চরিত্র বদল করে টাকা অন্য কাজে লাগিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির জেলা স্তরের এক নেতা বলেন, রাজ্যে পরিবর্তনের পর রঘুনাথপুর পুরসভার বিভিন্ন দুর্নীতি সামনে এসেছে। সেই সংক্রান্ত ফাইল জমা হয়েছে। কিন্তু সেই ফাইল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে একসময় যে আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমানে তা শিথিল হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন আমাদের দিকে আঙুল তুলতে শুরু করেছে।
বিজেপির রঘুনাথপুর শহর সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ফাইল জমা করেছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্ত হয়নি। বর্তমানে ফাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়েছি। কিন্তু সদুত্তর মেলেনি। বেশিরভাগ সময় জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মান যোজনার মতো কাজে আধিকারিকরা ব্যস্ত। রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, বর্তমানের বোর্ডে পুরসভায় যে কোনো কাজ বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠকের পর করা হয় এবং আগেও হয়েছে। প্রতিটি কাজ সরকারি নিয়ম মেনে করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ