Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে ফের অনিয়মের অভিযোগ

এবার সংগীত ভবনের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইউজিসি নীতি লঙ্ঘন, অস্বচ্ছতা এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ তুললেন এক বঞ্চিত পদপ্রার্থী।

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে ফের অনিয়মের অভিযোগ
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের অনিয়মের অভিযোগ। এবার সংগীত ভবনের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইউজিসি নীতি লঙ্ঘন, অস্বচ্ছতা এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ তুললেন এক বঞ্চিত পদপ্রার্থী। তিনি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক, ইউজিসি সহ একাধিক দপ্তরে ইমেলে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্বভারতীর কাছেও আরটিআই আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ইউজিসির সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। 

Advertisement

বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী তথা অভিযোগকারী ডঃ কুমুদরঞ্জন পাল সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। শর্ট লিস্টেড হয়ে ইন্টারভিউয়ে ডাকও পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বিশ্বভারতীর গত বছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক ক্লাসিক্যাল মিউজিক, তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইন্টারভিউ বোর্ডে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অন্য শাখার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্বভারতীর বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল সহ একাধিক বিভাগের পদপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছিলেন, সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি। যদিও সেই সময় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ইউজিসির নিয়ম মেনেই নিয়োগ চলছে।
সংগীত ভবনের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগকারী জানান, বিজ্ঞপ্তির ১০৪ নম্বর (ইউআর) এবং ১০৯ নম্বর (ওবিসি) পদের জন্য যথাক্রমে ১৫ ও ৬ জন প্রার্থীকে শর্টলিস্টেড করা হয়েছিল। চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারি ইন্টারভিউ হয়। তাঁর অভিযোগ, তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ের বিশেষজ্ঞের বদলে অন্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ইন্টারভিউ বোর্ডে রাখা হয়েছিল, যা ইউজিসির নির্দেশিকার বিরোধী।
তাঁর আরও দাবি, নির্বাচন কমিটি গঠন থেকে শুরু করে প্রার্থীদের মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতার অভাব ছিল। নির্বাচিত প্রার্থীর শিক্ষাগত ও গবেষণাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাই আরটিআই আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী, বিশেষজ্ঞ নিয়োগের নীতি, অনুমোদনের নথি এবং মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ