নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেস্তরাঁ তৈরি করে ব্যবসার ইচ্ছা বা সামর্থ্য থাকলেই চলবে না। প্রয়োজন ‘অনুমতি’ ও মোটা টাকা ‘তোলা’ দেওয়ার ক্ষমতাও। অন্যথায় ব্যবসা বিশবাঁও জলে। তৃণমূলের আমলে নিউ আলিপুর চত্বরে এটাই ছিল ‘কালচার’। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন এক মহিলা উদ্যোগপতি। অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাসের স্বামী তথা প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।
অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা। নিউ আলিপুরে একটি রেস্তরাঁ করার জন্য ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর অভিযোগ, জুঁই বিশ্বাস সাফ জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন স্বরূপ বিশ্বাস।’ উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের পর সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে জুঁইদেবী জানিয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। মহিলার অভিযোগ সত্যি হয়ে থাকলে কোন অধিকারে স্বরূপ বিশ্বাস রেস্তরাঁ নির্মাণের অনুমতিদাতা হয়ে উঠেছিলেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জুঁই বিশ্বাসকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
ওই মহিলা উদ্যোগপতির দাবি, তৎকালীন কাউন্সিলারের বক্তব্য মেনে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। অভিযোগ, স্বরূপের সাফ কথা, রেস্তরাঁ তৈরি করতে হলে ৮০ লক্ষ টাকা নগদ দিতে হবে। অন্যথায় অনুমতি মিলবে না। এখানেই শেষ নয়, তোলা চাওয়ার পাশাপাশি বোঝাপড়া করে নেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তোলার টাকা না দিলে তাঁর সঙ্গে একাকী আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ। তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, রাতে সুরুচি সংঘ ক্লাবে এসে একা দেখা করলে তোলার টাকা মাফ করে দেওয়া যেতে পারে। এই ইঙ্গিতেই স্পষ্ট তিনি কী চেয়েছিলেন! ওই মহিলা উদ্যোগপতি এই অভিযোগও জানিয়েছেন পুলিশকে।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর সুরুচি সংঘের ক্লাবঘরে হানা দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। দেখা যায়, ওই ক্লাবঘরের মধ্যেই রয়েছে গুপ্ত ঘর। তাতে বিলাসবহুল খাট, আলমারি, শৌচালয় সব কিছুই রয়েছে। এ যেন হোটেলের ঘর। সেই ক্লাব ঘরে রাতে একাকী মহিলাকে কোন বোঝাপড়ার জন্য ডেকেছিলেন স্বরূপ? উত্তর খুঁজছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।