


মথুরা: মথুরার শাহি ঈদগাহ মসজিদকে ‘বিতর্কিত সৌধ’ তকমা দিতে রাজি হল না এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এই নিয়ে হিন্দু পক্ষ আদালতে যে আবেদন করেছিল, তাও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি রামমনোহর মিশ্রের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, শাহি ঈদগাহ মসজিদকে বিতর্কিত ঘোষণা করার মতো কোনও শক্তপোক্ত প্রমাণ বা নথিও পাওয়া যায়নি। তাই শাহি ঈদগাহ আপাতত মসজিদ হিসেবেই গণ্য হবে।
মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির কমপ্লেক্সের কাছেই শাহি ঈদগাহ। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের দাবি, মসজিদের জমিটিই আদতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেখানে আগে কেশবনাথের মন্দির ছিল। কিন্তু মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ওই মন্দির ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওই সংগঠনগুলির। বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদে হিন্দু নিদর্শন আছে কি না, তা খোঁজার জন্য সমীক্ষার নির্দেশের পরেই শাহি ঈদগাহ নিয়ে হিন্দু সংগঠন নতুন করে আন্দোলনে নামে। মামলা দায়ের হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। ওই জমি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ট্রাস্ট ও শাহি ঈদগাহ মসজিদ কমিটির মধ্যে ১৯৬৮ সালের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে মামলাও দায়ের হয়। এর পাশাপাশি মসজিদকে ‘বিতর্কিত সৌধ’ ঘোষণার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন হিন্দুপক্ষের আইনজীবী মহেন্দ্রপ্রতাপ সিং। তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন, আদালতের নথিতেও যেন এরপর থেকে মসজিদকে ‘বিতর্কিত’ বলে উল্লেখ করা হয়।
পাল্টা মুসলিমপক্ষ আদালতে জানায়, এই ঈদগাহ কয়েকশো বছর ধরে রয়েছে। তাই তাকে হঠাত্ করে বিতর্কিত ঘোষণা করে দেওয়া যায় না। এছাড়া হিন্দুপক্ষ যে সব ঐতিহাসিক নথিপত্র আদালতে জমা দিয়েছে, সেগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি।