Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুথের সব ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাতিল!, সংখ্যালঘু বলেই কি কোপ? ক্ষোভ বসিরহাট উত্তরে

দীর্ঘ টালবাহানার পর সোমবার মধ্যরাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন

বুথের সব ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাতিল!, সংখ্যালঘু বলেই কি কোপ? ক্ষোভ বসিরহাট উত্তরে
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘ টালবাহানার পর সোমবার মধ্যরাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে দেখা গিয়েছে, বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের একটি বুথেই ৩৪০ জন ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়ার তালিকায় আছেন সেই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও সাফিউল আলম নিজেও। এই খবর চাউর হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একযোগে এত নাম তালিকা থেকে মুছে যেতে পারে? তাহলে কি সংখ্যালঘু হওয়াতেই এই ‘কোপ’? প্রশ্ন বাদ পড়া ভোটারদের। এখন বাদ পড়া ভোটারদের শেষ সম্বল ট্রাইবুনালে ভোটাধিকার রক্ষার আবেদন! 

Advertisement

বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এলাকার বেগমপুর-বিবিপুর পঞ্চায়েতের বড়গোবরা ৫ নম্বর বুথে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৯৫২ জন। কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখানকার ৩৪০ জন ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ করা হয়। সেই মতো তাঁদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন বিচারকরা। সোমবার গভীর রাতে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, ‘বিচারাধীন’ থাকা সব ভোটারের নামই বাদ পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অধিকাংশই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। নিয়মিত ভোটও দিয়েছেন তাঁরা। অথচ তাঁরাই এবার ভোট দিতে পারবেন কি না, সংশয় দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়াতেই সবার নাম বাদ দিয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর এখানে থাকছি। প্রতিবার ভোট দিয়েছি। হঠাৎ করে দেখি, নাম নেই। কেউ কিছু জানায়নি। এটা কীভাবে সম্ভব?’ একই সুর তারিকুল আলমের গলায়। তিনি বলেন, ‘আমরা এত বছর ধরে এখানকার ভোটার। তারপরও নাম বিচারধীন ছিল। ভেবেছিলাম, এবার সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন দেখছি, আমি ভারতীয় নই! তাহলে আমরা যাব কোথায়?’ নাম বাদ পড়েছে বিএলও সাফিউল আলমেরও। তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। এলাকার মানুষের থেকে আমিই ভোটের নথি সংগ্রহ করেছি। এখন দেখছি, আমার পার্টের ৩৪০ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? আসলে এই এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারের বসবাস বলেই এটা হল। এটা চক্রান্তও হতে পারে।’ 
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, একটি বুথে এত বেশি সংখ্যক নাম একযোগে ‘ডিলিট’ হওয়া কার্যত নজিরবিহীন। সাধারণত, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নাম বাদ পড়তে পারে। এরকম একলপ্তে সবাই বাতিল হতে পারে না। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, তথ্যভিত্তিক যাচাইয়ে ভুল বা প্রশাসনিক গাফিলতির জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। তবে কারণ যা-ই হোক না কেন, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। ভোটারদের বক্তব্য, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সেই অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কোনোভাবে কাম্য নয়। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ