Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুঁচুড়ায় সব রাস্তাই বেহাল, ক্ষুব্ধ পথচারী, ব্যবসায়ী থেকে টোটোচালক

চুঁচুড়া শহরজুড়ে বেহাল সড়ক। হাসপাতাল রোড থেকে আখনবাজার, বাসস্ট্যান্ড থেকে তোলাফটক, ব্যান্ডেল সর্বত্রই সড়কপথে চলাচল করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

চুঁচুড়ায় সব রাস্তাই বেহাল,  ক্ষুব্ধ পথচারী, ব্যবসায়ী থেকে টোটোচালক
  • ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া শহরজুড়ে বেহাল সড়ক। হাসপাতাল রোড থেকে আখনবাজার, বাসস্ট্যান্ড থেকে তোলাফটক, ব্যান্ডেল সর্বত্রই সড়কপথে চলাচল করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা তো বটেই, ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন টোটো চালকরাও। অনেকক্ষেত্রেই তাঁরা খারাপ রাস্তায় যেতে চাইছেন না। তাতে যাত্রীদের সমস্যা বাড়ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘড়িমোড় থেকে কোনো দিকেই যাওয়া যাচ্ছে না। সর্বত্র রাস্তা খারাপ। অথচ পুরসভা থেকে প্রশাসন— সব মহলই এ বিষয়ে নির্বিকার। ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে বাসিন্দাদের।

Advertisement

এরসঙ্গে জুড়েছে ধস। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার রাস্তায় ধস নেমেছে। বিশেষ করে বর্ষার মাত্রার সঙ্গে ধসের দাপটও বেড়েছে। এই অবস্থায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই উদ্বেগের। সব মিলিয়ে জীবন বাজি রেখেই চলাচল করতে হচ্ছে চুঁচুড়াবাসীকে। এই শহরেই টোটো চালান সমীর বাগ। তিনি বলেন, রাস্তায় টোটো নিয়ে করাই এখন বিড়ম্বনার। রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে, প্রতিদিন টোটোর যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আয়ের থেকে ব্যয় বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মলয় সরকার বলেন, বাইক থেকে সাইকেল কোনো যানবাহনেই যাতায়াত করা যায়না। খানাখন্দ তো আছেই, সঙ্গে জল জমে গিয়ে রাস্তা মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। পুরসভা, প্রশাসন কেউই নাগরিক সমস্যার দিকে তাকাচ্ছে না। 
পুজো মরশুমের প্রাক্কালে রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, শহরের মানুষই বাজারের দিকে আসতে চাইছেন না। রাস্তার সমস্যার কারণেই তাঁদের অনীহা তৈরি হয়েছে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় মানুষ আর বাজারমুখী হতে চাইছেন না। এ নিয়ে পুরসভার মতামত পাওয়া যায়নি। তবে চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, রাস্তার সমস্যা দূর করা আমাদের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। বর্ষার মধ্যে রাস্তা সংস্কার করা কঠিন কাজ, তবে এখন যা পরিস্থিতি তাতে মানুষের যাতায়াত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দু’টি বিষয়কে মাথায় রেখেই আমরা একটি সুসংহত পরিকল্পনা করেছি। আগস্টের শেষ সপ্তাহ বা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে আমরা একসঙ্গে শতাধিক রাস্তা সংস্কার করব। মানুষকে পরিষেবা দিতে আমি বিধায়ক তহবিল থেকেও কিছু অর্থ বরাদ্দ করব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর রথের সময় কিছু রাস্তা সংস্কার করা হয়। এবার সেই কাজে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার জেরেই এই অবস্থা। পাশাপাশি পুরসভাতেও চলছে অস্থিরতা। এই অবস্থায় নানা মহলের আশ্বাস থাকলেও আদৌ রাস্তা কবে ঠিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ