Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোট-উৎসবে ভুরিভোজ, মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানার প্রমাণে শামিল সব দল

ভোট হচ্ছে হোক। ভুরিভোজে চৈতন্যভূমে প্রেম-ভালোবাসা যেন অটুট থাকে। ক্যাম্পে, ক্যাম্পে চলে হাঁকডাক

ভোট-উৎসবে ভুরিভোজ, মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানার প্রমাণে শামিল সব দল
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: ভোট হচ্ছে হোক। ভুরিভোজে চৈতন্যভূমে প্রেম-ভালোবাসা যেন অটুট থাকে। ক্যাম্পে, ক্যাম্পে চলে হাঁকডাক। তৃণমূলের ক্যাম্প থেকে উড়ে আসে, আজ আমাদের মাছ-ভাত। সঙ্গে ডাল, আলু ভাজা ও চাটনি। পিকনিকের দরজা অবারিত। তোরাও আসতে পারিস। পরক্ষণেই বিজেপির ক্যাম্প থেকে চিৎকার করে জানানো হয়, আমাদেরও চিকেন-ভাত। মাছ ভাজা উপরি পাওনা। তোরাই বরং চলে আসিস। নেতাদের গায়ে ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ তকমা সাঁটলেও নবদ্বীপের বিজেপি কর্মীরা অবশ্য বলছেন, আমরা কিন্তু মাছে ভাতে বাঙালি। 

Advertisement

এবারের ভোট অন্যরকম। রাজনীতির ময়দানে ঢুকে পড়েছে বাঙালির ‘মৎস্য-সংস্কৃতি।’ তাই হয়তো আগের সব ভোটে চিকেন বিরিয়ানি, মাটন বিরিয়ানিতে বুথকর্মীদের আগলে রাখলেও এবার সবার পাতেই রুই-কাতলার বড় পিস। তবে, তৃণমূল-বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এই ভুরিভোজ প্রতিযোগিতার মধ্যে নেই সিপিএম। সকালে সেই মান্ধাতার আমলের ছোলা সেদ্ধ সহযোগে মুড়ি। কোনো কোনো বুথে বাম সহানুভূতিশীল ব্যক্তির সহায়তায় লুচি ও আলুর তরকারি। দুপুরে কমরেডরা কিন্তু বাড়িতেই আহার সারলেন।  
নবদ্বীপে গণতান্ত্রিক উৎসবে প্রতিটি দলের পিকনিকের আসর বসানো একটা ঐতিহ্য। এবারও তাই তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মতাদর্শগত পার্থক্য দূরে সরিয়ে পিকনিকের আনন্দযজ্ঞে শামিল হয়েছেন সব দলের কর্মীরা। কোথাও আবার যুযুধান কর্মীদের একসঙ্গে পাতপেড়ে খাওয়ার ছবিও নজরে এসেছে। নবদ্বীপের পানশিলা ২০৩ নম্বর বুথের এক বিজেপি কর্মী কমল সরকার বলছিলেন, একই পাড়ায় সবার বাস।  বেফালতু ঝামেলায় জড়াব কেন? তাই আমরা বরাবরই ভোট উৎসবকে খাওয়া-দাওয়ার মিলন উৎসব বলে ভাবি। 
ওই বুথেরই এক মহিলা তৃণমূল কর্মী সবিতা দত্ত বলছিলেন, আমাদের এখানে ভোট মানেই উৎসব। আমরা এক সঙ্গে বসে রুটি, কলাও খাই। 
বিজেপি এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে ধনী পার্টি। তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিজেপির তহবিলের পরিমাণ ৭ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। দলের কর্মীদের জন্য ভুরিভোজের আয়োজন ভালোই থাকবে, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু, এবারে বাংলার ভোটে মৎস্য-বিতর্ক তাঁদের  ধাওয়া করছে। তাই হয়তো মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানা তুলে ধরতে মরিয়া বিজেপির স্থানীয় নেতারা। 
বিজেপি’র নবদ্বীপ বিধানসভা মণ্ডল-৩-এর সভাপতি মধুসূদন সেন জানান, সকালে কর্মীদের দেওয়া হয়েছে রুটি-লাড্ডু। দুপুরে হোটেলে আহারের ব্যবস্থা। সেখানে নিরামিষ, মাছ-ভাত ও মাংস-ভাতের ঢালাও ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রেকফাস্টের আয়োজনে বিজেপিকে অবশ্য হারিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। নবদ্বীপ ব্লক তৃণমূল সভাপতি কল্লোল কর জানান, দলের কর্মীরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। আজ তাঁদের উৎসবের প্রথম দিন। সকালে লুচি, আলুরদম ও ডিম সেদ্ধ খাওয়ানো হয়েছে। দুপুরে সম্পূর্ণ ডিম ভাত সঙ্গে আমের ডাল ও তরিতরকারি। নবদ্বীপের কংগ্রেস প্রার্থী সমীর সাহা বলছিলেন, কংগ্রেস বরাবরই উদারমনস্ক পার্টি। আমরা সকালে লুচি, আলুরদম ও মিষ্টি খেয়েছি। দুপুরে গ্রাম ও শহরে মাংস-ভাতের ঢালাও ব্যবস্থা। সঙ্গে অবশ্যই আম ডাল ও টক দই। 
আবার সিপিএম প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ জানান, সাধারণত আমাদের কর্মীরা মুড়ি চিঁড়ে খেয়েও চালিয়ে দেন। কোথাও আবার ডাল, ভাত হয়। সাধারণ মানুষের টাকাতেই আমাদের দল পরিচালিত হয়। আমাদের ব্রেকফাস্ট সাদামাটা। কোথাও মুড়ি, কোথাও রুটি, কোথাও আবার লুচি হয়েছে। দুপুরে কমরেডদের বাড়িতেই খেতে বলেছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ