


অভিষেক পাল, বহরমপুর: বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে চূড়ান্ত জনসংযোগ সারবেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। বাহারি প্রচারে জেলার ২২টি বিধানসভায় নজর কাড়তে চলেছেন শাসকদলের প্রার্থীরা। কেউ ঢাকি বায়না করলেন, কেউ আবার আদিবাসী নাচের দল। অনেকেই আবার একই রকমের পোশাক পরে শোভাযাত্রা করে প্রচারে নামবেন। সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রচারে ঝড় তুলতে পয়লা বৈশাখে পথে নামছে বিরোধী শিবিরও।
এদিন সকাল থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরানো কালী মন্দিরগুলিতে ভিড় হবে। সেখানে কোনো কোনো প্রার্থী মাথা ঠুকে মায়ের কাছে আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করবেন। অনেকে আবার প্রচারের মাঝেই ফাঁকা দেখে কালীমন্দিরে পুজো সারবেন। তীব্র গরমে মাথায় টুপি দিয়েই প্রচার সারছেন প্রার্থীরা। এদিনও তার ব্যতিক্রম হবে না। দুপুরে কোনো প্রার্থী কর্মীদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সারবেন, আবার কেউ পার্টি অফিসেই সকলের সঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করেছেন। তবে এই তীব্র গরমে সকলেরই হালকা খাবার পছন্দের।
কান্দির তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, স্থানীয় কালীবাড়িতে ছোলা বাতাসা জলের ব্যবস্থা থাকবে। ওইদিন এমনিতেই মন্দিরগুলিতে প্রচুর ভিড় হয়। প্রতিবারই এই ব্যবস্থা থাকে। এদিন সকাল থেকেই প্রচার করব। একটা ফাঁকা সময়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে আবার প্রচার করব। আমি তো হেঁটে প্রচার করতে বেশি পছন্দ করি। তাতে মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায়। বছরের প্রথম দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা জানাব।
রানীনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন বলেন, প্রতিদিনই এক একটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করছি। কোনো সময় হাঁটছি, আবার কোনো সময় হুড খোলা গাড়িতে ঘুরছি। বছরের প্রথম দিন একই রকমভাবে প্রচার করব। তবে পরিকল্পনা আছে কোনো সিরিয়ালের নায়িকাকে নিয়ে এসে একটি রোড শো করার।
হরিহরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী জামির মোল্লা বলেন, মানুষের কাছে যাচ্ছি। প্রতিদিনই প্রচার চলছে। তৃণমূলের দুর্নীতি, মানুষের কর্মসংস্থানের দাবিতে প্রচারে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। নববর্ষে একটু বাড়তি উদ্যমে প্রচার হবে।
বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রতিটি এলাকায় আমি হেঁটে প্রচার করছি। প্রতিদিনই তিন বেলা মানুষের সঙ্গে মিশে প্রচার করছি। খুবই ভালো সাড়া মিলছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও প্রচার চলছে। নববর্ষে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা নিয়ে প্রচার কর্মসূচি সাজানো হবে। বছরের প্রথম দিন মন্দিরে পৌঁছে দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করব। রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আখরুজ্জামান বলেন, রঘুনাথগঞ্জ শহরে নববর্ষ উপলক্ষ্যে বেশ ভালো সাজানো হয়। বহু মানুষ উৎসবের মেজাজে থাকে। তাই এদিন একটু আলাদাভাবে প্রচার কর্মসূচি করে মানুষের নজর কাড়ব। নতুন বছরে একটাই কামনা, সকলে যেন সুস্থ থাকে এবং আগামী বছর যেন খুব ভালো কাটে। আগামী ২৩ তারিখ মানুষ সকাল সকাল গিয়ে যাতে আমাদের ভোট দেয় সেটাই প্রচার করছি। খড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী আশিস মার্জিত বলেন, ইচ্ছা আছে নববর্ষের প্রথম দিন সকালে সাইকেল চেপে নিজের এলাকায় মানুষের সঙ্গেএকটু জনসংযোগ সেরে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করব। তারপর মন্দিরে পুজো দিয়ে অন্যান্য দিনের মতো প্রচার কর্মসূচিতে বের হব।
সাগরদিঘির কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী বলেন, নতুন বছর সমস্ত দলের নেতাকর্মীর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। তারপর মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমরা ভোটের প্রার্থনা করব এবং সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানাব।