Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে দাপিয়ে ভোট প্রচার সব শিবিরের, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন পুলিশ অবজার্ভাররা

প্রার্থীদের জোরকদমে প্রচার আছেই। সঙ্গে জুড়েছে প্রশাসনিক ও পুলিশের প্রস্তুতি। ভোটের প্রচার পর্বের শুরুতেই উৎসবের হাওড়া প্রবল বেগে বইতে শুরু করেছে।

হুগলিতে দাপিয়ে ভোট প্রচার সব শিবিরের, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন পুলিশ অবজার্ভাররা
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রার্থীদের জোরকদমে প্রচার আছেই। সঙ্গে জুড়েছে প্রশাসনিক ও পুলিশের প্রস্তুতি। ভোটের প্রচার পর্বের শুরুতেই উৎসবের হাওড়া প্রবল বেগে বইতে শুরু করেছে। গঙ্গাপাড়ের জনপদে সকাল থেকে রাত, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবলই ভোট। মঙ্গলবার দিনভর প্রার্থীদের রকমারি ভোটপ্রচার দেখা গিয়েছে হুগলিতে। তেমনই এদিন তুঙ্গে ছিল প্রশাসনিক প্রস্তুতি। আবার, পুলিশ অবজার্ভারদের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে চন্দননগর কমিশনারেট ও গ্রামীণ পুলিশ মহলেও ছিল তৎপরতার ছবি। ইতিমধ্যেই ইভিএম নিয়ে একদফা সর্বদলীয় বৈঠক সেরে ফেলেছে জেলা নির্বাচন কমিশন। ফলত, ভোটের হাওয়া সবমহলে সাড়া ফেলেছে।

Advertisement

মঙ্গলবার নির্বাচনি তৎপরতা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে চুঁচুড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য দিনভর চরকির মতো পাক খেয়েছেন। তবে নাগরিক মহল্লার প্রচার থেকে দেবাংশুর বেশি সময় দিয়েছেন দলের কর্মীদের নিয়ে আলোচনায়। এদিন সকাল থেকে দফায় দফায় তিনি গ্রামীণ চুঁচুড়ার নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই ফাঁকে প্রচারও সেরেছেন। আবার বিকেলে চুঁচুড়ার শহরকেন্দ্রীক কর্মিসভা, কাউন্সিলারদের সভায় হাজির ছিলেন তৃণমূলের তরুণতুর্কি। রাতে নাগরিক মহল্লাতেও প্রচারে গিয়েছিলেন দেবাংশু। চুঁচুড়ার দলীয় প্রার্থীর তুলনায় বয়সে প্রবীণ হলেও দিনভর দাপিয়ে প্রচার সেরেছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা সিঙ্গুরের দাপুটে নেতা বেচারাম মান্না। এদিন বাগডাঙা ছিনামোড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় পদযাত্রায় প্রচার সারেন বেচারাম। রাতেও সিঙ্গুরে ছোটো জনসভা সহ প্রচারের কাজ করেছেন সিঙ্গুরের বিদায়ী বিধায়ক। তৃণমূলের আরেক নবীন প্রার্থী শ্রীরামপুরের তন্ময় ঘোষও এদিন দিনভর দাপিয়ে প্রচার করেছেন। তৃণমূলের অসীমা পাত্র, অরিন্দম গুঁইনও নিজের নিজের এলাকায় প্রচার সেরেছেন। 
চণ্ডীতলার সিপিএম প্রার্থী আসিফ আলি ডানকুনির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার করেছেন। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সভা করেন সিপিএম জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ। প্রতিদিনের মতো এদিনও সাড়া জাগিয়ে প্রচার করেছেন রাজ্যনেত্রী তথা উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি গণভবন এলাকায় দীর্ঘসময় প্রচার করেছেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তাঁকে জনসংযোগ করতে দেখা গিয়েছে। বলাগড়ের একাধিক বাজারে এদিন জনসংযোগ করেন সেখানাকার বামপ্রার্থী। প্রচারে পিছিয়ে ছিল না বিজেপি’ও। শ্রীরামপুরে ভাস্কর ভট্টাচার্য ও সপ্তগ্রামে স্বরাজ ঘোষ নিজেদের মতো করে জনসংযোগ করেছেন। তবে এদিন দলীয় সভা থাকায় সকালের দিকে পদ্মপার্টির প্রচার তেমন হয়নি। রাতে বলাগড়ের জিরাটের বড়ো এলাকাজুড়ে প্রচার সারেন বিজেপির মহিলা প্রার্থী সুমনা সরকার।
প্রার্থীদের সঙ্গে ভোট প্রস্তুতিতে দিনভর ব্যস্ত ছিল প্রশাসন ও পুলিশ। মঙ্গলবার হুগলির তিনজন আরও বদলি হয়েছেন। পাশাপাশি, এদিন পাঁচজন পুলিশ অবজার্ভার ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন। তাঁরা গ্রামীণ ও চন্দননগর কমিশনারেটের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কমিশনার সুনীল যাদব বলেন, নিরপেক্ষ, ভয় ও প্রলোভনহীন ভোট করাতে আমরা বদ্ধপরিকর। সেই কাজই পুলিশ অবজার্ভাররা খতিয়ে দেখেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ