


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বিজেপি ছেড়ে আসা সুমন কাঞ্জিলালকে। এবারও আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল না। সুমন প্রার্থী হতেই বেসুরো হচ্ছেন তৃণমূলের আদি নেতারা। মঙ্গলবার রাতেই সৌরভ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের আদি প্রবীণ নেতা তথা শহরের আইনজীবী জহর মজুমদার দলেরই প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলালকে ‘বেইমান’ বলে আখ্যা দেন।
মঙ্গলবার রাতে সৌরভ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘দারুন লাগল আপনাদের পলিসি। এরকম পলিসি কোনো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নেই।’ আরএকটি পোস্টে সৌরভ লেখেন, ‘আলিপুরদুয়ার জেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যিনি সব টেন্ডার নিয়েছেন, সেটা প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো। তার নেতৃত্বেই বিধানসভা নির্বাচন করুন।’ অবশ্য বুধবার দিনের আলো ফুটতেই সৌরভ তাঁর দু’টি পোস্টই ডিলিট করে দেন। ততক্ষণে অবশ্য সৌরভের সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। তুমুল শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। যদিও ঠিক কাকে উদ্দেশ্য করে সৌরভের এই পোস্ট তা তিনি খোলসা করে বলেননি।
এদিন সৌরভ বলেন, এটা একান্তই ব্যক্তিগত পোস্ট। এখানে রাজনীতির কোনো বিষয়ই নেই। আমি তো দল বা প্রার্থী নিয়ে কিছু লিখিনি। আমি ভোটের প্রচার করছি। আমি মুখ্যমন্ত্রী ও দলের পাশেই আছি। আগামীতেও থাকব।
এদিকে, এদিন শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা জহর মজুমদার তাঁর বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, কেন পার্টি একজন দলবদলুকে প্রার্থী করল? সুমন উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতা। ও বেইমান। এরকম একজন বেইমানকে ভোট দেওয়া উচিত নয়। জহরবাবুর এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে যায় শাসক দল। যদিও জহরবাবু ও সৌরভের পোস্ট নিয়ে শাসকদলের কোনো নেতাই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপক বর্মন বলেন, বেইমানকে তো মানুষ বেইমানই বলবে। এ আর নতুন কী। এ থেকেই বোঝা যায় তৃণমূল হারছেই।
তৃণমূল প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল অবশ্য বলেন, জহরবাবু দলের সিনিয়র নেতা। তিনি কী বলেছেন জানি না। আমি এনিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। আর সৌরভবাবু তো বলেই দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা ওঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পোস্ট। তিনি তো দল বা আমাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে এনিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই আমার। • সৌরভ চক্রবর্তী।