


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের জলপথে ঢোকার ‘দোষ’ কবুল করা ১৯ জন বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে দ্রুত সে দেশে পুশব্যাক করার নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার আলিপুরের অষ্টম বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম) অর্ণব মুখোপাধ্যায় ওই নির্দেশ দেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
দোষ স্বীকার করা অভিযুক্ত ১৯ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে এদিন বিচারক ৬৭ দিনের জেল, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত সাতদিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন। যেহেতু ৬৭ দিন জেল হাজতে কাটানো হয়ে গিয়েছে ওই মৎস্যজীবীদের, তাই তাঁদের আদালত পুশব্যাক করার নির্দেশ দেয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল, কিন্তু সেই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মৎস্যজীবীদের তরফে দুই আইনজীবী ধীমান মণ্ডল ও চয়ন নস্কর বলেন, ‘মক্কেলদের তরফে আদালতে যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা কার্যকর হওয়ায় ভালো লাগছে। আদালতের নির্দেশ জেলা প্রশাসন কার্যকর করুক, এটাই কাম্য।’ এদিন আদালতের রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত ১৯ বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে কড়া প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেখান থেকেই তাঁদের পুশব্যাক করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন।
চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী ট্রলার নিয়ে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। টহলরত বিএসএফের হাতে তাঁরা ধরা পড়েন। পরে তাঁদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ ও চুরির মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় মৎস্যজীবীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি তাঁদের ট্রলার ও মাছ ধরার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছাড়াও উদ্ধার হয় প্রায় ৪০০ কেজি পচা মাছ। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শেষ করে আলিপুর আদালতে ১৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। মামলায় সাক্ষী করা হয় ছ’জনকে। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মুখে সম্প্রতি ধৃতদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, আবহাওয়া খারাপ থাকার ওই বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা ভুল করে ভারতের জল সীমানায় প্রবেশ করেছিলেন। এনিয়ে তাঁরা আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করছেন। আমাদের মক্কেলদের দ্রুত পুশব্যাক করা হোক। যাতে তাঁরা সে দেশে ফিরে যেতে পারেন।’ এনিয়ে নানা আইন মোতাবেক শুনানি চলে আদালতে। এদিন বিচারক রায় ঘোষণা করেন।